তিস্তা বিপন্ন

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৭:১৬ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০২০

পত্র-পত্রিকার খবরে প্রকাশ কাউনিয়ায় বহমান এক সময়ের খরস্রোতা তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে এসে বর্তমানে হাঁটু পানিতে পরিণত হয়েছে। এ বছর শুস্ক মৌসুমের শুরুতে পানি প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পেয়ে ডালিয়া পয়েন্ট থেকে কাউনিয়া পর্যন্ত প্রায় ৭৫ কি: মি: নদীর অধিকাংশ স্থান এখন ধুঁ ধুঁ বালুচর। তিস্তা নদীর উজানে ভারত পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণ করে একটি খালের মাধ্যমে শুকনা মৌসুমে নদী থেকে ১৫০০ থেকে ২০০০ কিউসেক পানি মহানন্দা নদীতে নিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে তিস্তার এ অবস্থা। ভারত তিস্তা থেকে পানি প্রত্যাহার করায় তিস্তা বাঁধ প্রকল্প প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। নদীতে পানি না থাকায় রংপুর জেলায় মৎস্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। হুমকির মধ্যে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। মৎস্যজীবীদের কর্মহীনতা, কৃষিতে সেচ, আরসেনিক সমস্যা সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই আছে। শুধু কাউনিয়া নয়, ভারত তিস্তার পানি প্রত্যাহার করায় উত্তরাঞ্চলে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। ভাটির দেশকে পানি বঞ্চিত করা যাবে না, এটাই আইন। অভিন্ন নদীর স্বাভাবিক গতি-প্রবাহে ব্যত্যয় ঘটানো, নদীর ওপর বাঁধ তৈরি কিম্বা নদীর প্রবাহকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করা ইত্যাদি-এক তরফাভাবে হতে পারে না। এটি আন্তর্জাতিক রীতিনীতির পরিপন্থী। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বারবার তিস্তার পানি বন্টন চুক্তির ব্যাপারে তাদের প্রতিশ্রুতির কথা উচ্চারিত হলেও তার বাস্তবতার দেখা মিলছে না। একের পর এক মৌসুমে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকলে তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্প এলাকায় অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি যে সৃষ্টি হবে না, সে নিশ্চয়তা কি কেউ দিতে পারে-সেটা আমরা মনে করি না। আমরা আশা করব, দুই প্রতিবেশী দেশের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের স্বার্থে দিল্লি সরকার তাদের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটাবে।