স্বপ্নের পদ্মাসেতু

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৬:১০ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০২০

পদ্মাসেতু একটি স্বপ্ন, এটি অপার সম্ভাবনার নাম। একটি দেশের মর্যাদার ও অহংকারের প্রতীক, অর্থনীতির নতুন সোপান। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এই পদ্মা সেতু। তবে স্বপ্ন নয়, পদ্মা তীরের মানুষের চোখে এবার বাস্তবেই ধরা দিচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। দিন-রাত কাজ চলছে। মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের পদ্মা সেতুর ৯ ও ১০ নম্বর পিলারের ওপর ২-সি স্প্যানটি বসানো হয়েছে। এতে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ৫ হাজার ৫৫০ মিটার। এ স্প্যানটি বসানোর পর বাকি থাকছে আর মাত্র চারটি। ৩৬তম স্প্যান বসানোর ছয় দিনের মাথায় বসেছে এটি। চলতি মাসেই আরও দুটি স্প্যান বসানোর কথা রয়েছে। এরপর ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের জন্য বাকি থাকবে আর দুটি স্প্যান। এরপরই সম্পন্ন হবে স্বপ্নের পদ্মাসেতুর সব কটি স্প্যান বসানোর কাজ। অচিরেই দেশের মানুষের স্বপ্ন পূরণ হবে। এই স্বপ্ন পূরণের জন্য সরকার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিল। এই চ্যালেঞ্জে সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজয়ী হয়েছেন। স্বপ্ন পূরণ হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের আনন্দের সীমা থাকবে না। সেই সঙ্গে আনন্দ উপভোগ করবে দেশের মানুষ। এটা হবে সবার জন্য বড় পাওনা।

 উল্লেখ্য, দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো হবে এ পদ্মা সেতু। যা অত্যাধুনিক স্টিল দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু করার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ আজ সর্বত্র প্রশংসিত হচ্ছে। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল হয়েছে। এটি অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করবে উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। দেশের সব অঞ্চলের সমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে এ সেতু অবদান রাখবে। পদ্মা সেতু নির্মিত হলে এটি হবে বাংলাদেশের বৃহত্তম সেতু। দুনিয়ার দীর্ঘতম সেতুগুলোর একটি প্রমত্ত পদ্মাকে শাসন করে সেতু নির্মাণ সত্যিকার অর্থেই একটি কঠিন কাজ। শুধু নদী প্রান্তেই পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। সব মিলিয়ে এর দৈর্ঘ্য দাঁড়াবে প্রায় ৯ কিলোমিটার। দ্বিতল বিশিষ্ট এ সেতুর খুঁটির ওপর ইস্পাতের যে স্প্যান বসানো হবে তার ভিতর দিয়ে চলবে ট্রেন। আর ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন। সেতু বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ শেষ করে জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাবে- এটাই দেশের সবাই প্রত্যাশা করে।