রাসায়নিক গুদাম স্থানান্তর

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৬:০৯ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০২০

প্রতিটি ব্যবসার একটি ধরন রয়েছে, রয়েছে একটি নীতিমালা। এই ধরন এবং নীতিমালা মেনেই ব্যবসা করতে হয়। তাহলে জনজীবনের জন্য যেমন তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে না, তেমনিভাবে হঠাৎ দুর্যোগের মুখেও পড়তে হয় না। কিন্তু এ শুধু কথা এবং কাগজে কলমেই। বাস্তবে আমাদের এখানে নীতিমালা মেনে কাজ হয় খুবই কম। ফলে প্রতিনিয়ত আমাদের দুর্ঘটনাই নয় শুধু, কখনো কখনো বড় মানবিক বিপর্যয়ও মেনে নিতে হয়। সইতে হয় স্বজন হারানোর মতো কষ্ট। বিপর্যয়, দুর্যোগ, দুর্ঘটনা যাই ঘটুক, তারপরও যদি সচেতনতা কাজ না করে, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মাঝেই থাকে, নীতিমালা মানারও কোনও গরজ না থাকে, তাহলে এর চেয়ে বেদনার কিছু নেই। আমাদের রাজধানীর পুরান ঢাকা, এমনিতেই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা।

নানা রকম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গাদাগাদি করে গড়ে ওঠার পরও আবাসিক এলাকা বলতে যা বোঝায়, পুরান ঢাকা তাই। আবাসিক এলাকায় নানামুখী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, কিন্তু তাতে মানা হয়নি কোনো নীতিমালা, কোনো নিয়ম, আর তাই আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে কেমিক্যালের মতো বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থের ব্যবসা। ১০ বছর আগে নিমতলী ট্রাজেডির পর সেখান থেকে রাসায়নিক গুদাম ও কারখানা সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু স্থান নির্ধারণের পরও নানা অজুহাতে অদ্যাবধি স্থানান্তরিত হয়নি সেখানকার রাসায়নিক গুদাম-কারখানা। জানা গেছে, পুরান ঢাকার রাসায়নিক গুদাম-কারখানাগুলো মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে এবং ঢাকার শ্যামপুর ও গাজীপুরের টঙ্গীতে ২০২২ সালের আগে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে না। আমরা মনে করি, অবিলম্বে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হওয়া জরুরি। সেই সঙ্গে আবাসিক এলাকায় দাহ্য পদার্থের ব্যবসা সংক্রান্ত আইনের প্রয়োগে সরকারের আন্তরিকতাও আমরা প্রত্যাশা করি। নিমতলি বা চকবাজারের মতো আর কোনো ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করতে পুরান ঢাকার জনবসতি এলাকা থেকে বিস্ফোরক দ্রব্যের দোকান ও গুদাম দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হবে -এমনটিই কাম্য।