কোটি কোটি টাকা নিয়ে উধাও ‘সিরাজগঞ্জশপ’ ও ‘আলাদীনের প্রদীপ’

Online Desk Saju Online Desk Saju
প্রকাশিত: ১২:৩৫ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১

ই-ভ্যালি, ই-অরেঞ্জের মতো প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি চটকদার বিজ্ঞাপন ও বিশাল ছাড়ের অফারের ফাঁদে ফেলে হাজার হাজার গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সিরাজগঞ্জশপ.কম ও আলাদীনের প্রদীপ’র বিরুদ্ধে।

এ দুই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ ও পণ্যের অর্ডার করে অগ্রিম টাকা দিয়ে এখন বিপাকে পড়েছেন হাজারো গ্রাহক। অভিযোগ আছে, গ্রাহকদের টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন প্রতিষ্ঠান দুটির কর্ণধারেরা, তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে এ দুই প্রতিষ্ঠানের অফিস। অনলাইন ব্যাংকিং নগদ’র মাধ্যমে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকায় হতাশায় ভুগছেন বিনিয়োগকারীরা।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলি ইউনিয়নের বেড়াবাড়ি গ্রামের স্বল্পশিক্ষিত তরুণ জুয়েল রানা জেলা প্রশাসনের লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রজেক্টের প্রশিক্ষণ নিয়ে গড়ে তোলেন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সিরাজগঞ্জশপ.কম। শহরের এম এ মতিন সড়ক ও কাঠেরপুল এলাকায় জাকজমকপূর্ণ দুটি অফিস নিয়ে জনবল নিয়োগ দিয়ে চটকদার বিজ্ঞাপন ও বিশাল ছাড়ের অফারের মাধ্যমে শুরু করেন বিনিয়োগ ও অর্ডারের অগ্রিম অর্থ আদায়। নিজে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হন ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মাসুদ পারভেজকে করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক। প্রতিষ্ঠান চালুর পর অল্প সময়ে কোটিপতি বনে যান জুয়েল ও মাসুদ, শুরু হয় তাদের বিলাসী জীবনযাপন।

জেলার তাড়াশ উপজেলার নিভৃতপল্লীর সন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মুন ও মাহমুদ হাসানও ঠিক একইভাবে গড়ে তোলেন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলাদীনের প্রদীপ। দেশের অন্যান্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সিরাজগঞ্জশপ.কম ও আলাদীনের প্রদীপ প্রায় সোয়া চার লক্ষ অর্ডারের বিপরীতে সংগ্রহ করে অগ্রিম ২০৫ কোটি টাকা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক কালো তালিকাভুক্ত দেশের ১৫টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থাকা এ প্রতিষ্ঠান দুটির কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পণ্য প্রদান ও টাকা রিফান্ড করার পরেও এখনো গ্রাহকদের কাছে প্রায় ২২ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।

এদিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বকেয়া রেখে প্রতিষ্ঠান দুটির কর্ণধারেরা আত্মগোপনে যাওয়া ও নগদ অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকায় বিভ্রান্তি ও হতাশায় ভুগছেন বিনিয়োগকারীরা। আত্মগোপনে যাওয়ার দুই প্রতিষ্ঠানের উল্লিখিত চার যুবক গ্রাহকদের নানা আশ্বাস দিয়েছিলেন। প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তারা এমনও বলেছিলেন গ্রাহকদের।


আরও পড়ুন