সুন্দরবন রক্ষা জরুরি

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৮:৩৬ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২০

একটি দেশের জন্য বনভূমিকে রক্ষা করার পাশাপাশি জীব বৈচিত্র্য রক্ষাও কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সঙ্গত কারণেই এ সংক্রান্ত কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই প্রতীয়মান হয়। গত সপ্তাহে কক্সবাজারে দেশের প্রথম এবং বিশ্বের বৃহত্তম জলবায়ু উদ্বাস্তু আবাসন প্রকল্প উদ্বোধন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জলোচ্ছ্বাস রোধে ব্যাপকভাবে গাছ লাগানো হবে। আমরা মনে করি যে বিপুল পরিমাণ গাছ লাগানো হবে তার একটি অংশ ভাঙন প্রবণ নদীর পাড়ে লাগানো হলে কাজে লাগবে বলে অনেকে মনে করেন। আইলা ও তৎপূর্ববর্তী ঘুর্ণিঝড়ের সময় আমাদের দেশে এবং সাম্প্রতিক আম্পানের সময় পার্শ¦বর্তী পশ্চিমবঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি রোধে সুন্দরবন অনেকখানি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে। তাই বিভিন্ন মহল থেকে বারবার সুন্দরবন রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

সরকার একদিকে বন রক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে ব্যবস্থা নিচ্ছে। আবার অন্যদিকে বন ঘেঁষে এমন সব জ্বালানি শিল্পোদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সুন্দরবনের ওপর। আমরা মনে করি, সুন্দরবন নিয়ে সরকারের এই দ্বৈতনীতি পরিত্যাগ করা জরুরি। বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ যে বন, তা রক্ষায় সরকারকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সম্প্রতি পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বন ব্যবস্থাপনা, বনজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি এবং পর্যটনের সম্ভাবনাকে ঘিরে সুন্দরবন সুরক্ষায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। আর প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের জন্য প্রচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষায় নিরাপত্তা বেষ্টনী হিসেবেই নয়, সুন্দরবন এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য এবং উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম রক্ষাকবচ। তাই সুন্দরবন রক্ষায় বাংলাদেশকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং এর জীববৈচিত্র্য রক্ষা থেকে শুরু করে সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ ও তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।