প্রসূতির মৃত্যুর পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পলাতক: মাঠ থেকে লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৩, ২০২৩, ০৬:৩৩ বিকাল
আপডেট: জানুয়ারী ২৩, ২০২৩, ০৬:৩৩ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজারের সময় ভুল চিকিৎসায় রুপালী আক্তার (২২) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। অপারেশনের কয়েক ঘন্টা পর স্বজনেরা জানতে পারেন মৃত্যুর পর প্রসূতির লাশ গুম করেছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। এরপর খবর পেয়ে আরেক হাসপাতালের মাঠ থেকে ওই প্রসূতির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

গত রোববার রাতে সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের ‘আল-হেরা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হসপিটাল’ নামে একটি হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

রুপালী সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের বড়খালের পাড় গ্রামের মো. পলিন ইসলামের স্ত্রী।

রুপালীর মামা শ্বশুর মো. শরীফ, দেবর পাভেল জানান, চিকিৎসক আক্তার নাহার জ্যোতিকে দেখানোর জন্য রুপালীকে আল-হেরা ক্লিনিকে নিয়ে আসলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর বলা হয় পেটের বাচ্চা বড় হয়ে গেছে। রুপালীর বাচ্চা কোনোভাবেই নরমালে হবে না, সিজারিয়ান অপারেশন করতে হবে বলে জানায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সিজার করানোর জন্য রোববার বিকেলে রুপালীর নিয়ে আসেন স্বজনেরা। পরে চিকিৎসক আক্তার নাহার জ্যোতি (৩০), চিকিৎসক নাজমুল হাসান সোহেল (৪০), চিকিৎসক মাহমুদাসহ অজ্ঞাতনামা ৩ থেকে ৪ জন নারী ও পুরুষ এসে রুপালীর সিজার করানোর জন্য অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। রাত ৭টার দিকে অপারেশন থিয়েটার থেকে এক ব্যক্তি বের হয়ে বলে সিজার সম্পন্ন হয়েছে এবং ছেলে বাচ্চা হয়েছে। তারপর প্রসূতি রুপালীর কথা জিজ্ঞেস করলে সুস্থ আছে বলে তাড়াহুড়ো করে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে পড়েন।

স্বজনেরা আরও জানান, এরপর দুই-তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও রুপালীকে দেখতে পারেননি তারা। রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্বজনেরা জানতে পারেন রুপালী ভুল চিকিৎসায় মারা গেছে ও তার মরদেহ গুম করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পালিয়ে গেছে। পরে স্বজনদের চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে এলাকাবাসী আসলে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে রুপালীর মরদেহ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঠ থেকে উদ্ধার করে।

প্রসূতির মামা আতিকুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের মেয়ের লাশ মৃত্যুর পর আমাদেরকে না জানিয়ে হাসপাতালের লোকজন সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মাঠে রেখে পালিয়ে যায়। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।’

এদিকে ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে আল হেরা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ করেননি।

এদিকে প্রসূতির মরদেহ ও শিশুকে উদ্ধার পর পাঠানো হয় কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে। এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে একটি নবজাতক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে রুপালী নামে এক নারীর মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে আসলে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

বিএমএ এর সাধারণ সম্পাদক বাদল ওয়াহাব বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। আমরা খোঁজ খবর নিয়ে জেনেছি মরদেহ মর্গে রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিব।’

সিভিল সার্জন চিকিৎসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আল হেরা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হসপিটালটি অনুমোদনহীন। এরই মধ্যে হাসপাতালটিকে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।’

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। নবজাতককে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি রুপালীর মরদেহ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঠে রয়েছে। আমরা গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি।’

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়