আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার ২য়পর্ব: আমিন ধ্বনিতে মুখর তুরাগ তীর

প্রকাশিত: জানুয়ারী ২২, ২০২৩, ০৬:৫৯ বিকাল
আপডেট: জানুয়ারী ২২, ২০২৩, ০৬:৫৯ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি: আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এবারের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব ও তাবলীগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা সাদ অনুসারীদের বিশ্ব ইজতেমা শেষ হয়েছে।  রোববার দুপুর সোয়া ১২টায় শুরু হয় আখেরি মোনাজাত। মোনাজাত শেষ হয় দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন তাবলীগের শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্দলভির ছেলে ইউসুফ বিন সাদ কান্দলভি। তিনি আরবি ও উর্দু ভাষায় মোনাজাত পরিচালনা করেন। ৩০ মিনিটব্যাপী মোনাজাতে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ প্রথম ১১ মিনিট পবিত্র কোরআনে বর্ণিত দোয়ার আয়াতগুলো উচ্চারণ করেন। শেষ ১৯ মিনিট দোয়া করেন উর্দু ভাষায়।

এ সময় মুঠোফোন ও স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের সুবাদে দেশ-বিদেশের আরও লাখ লাখ মানুষ একসঙ্গে হাত তোলেন আল্লাহর দরবারে। মোনাজাতে বিশ্বের মুসলমানদের কল্যাণ ও শান্তি কামনা করা হয়। এসময় আমিন ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠে তুরাগ নদীর তীর।

মুসল্লিরা জানান, সকাল ১০টার আগেই ইজতেমা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মুসল্লিরা মাঠের আশপাশের রাস্তা, অলি-গলি, বিভিন্ন ভবনের ছাদে অবস্থান নেন। ইজতেমাস্থলে পৌঁছাতে না পেরে কয়েক লাখ মানুষ কামারপাড়া সড়ক ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে মোনাজাত শেষ করেন। এ পর্বের নারীদের মোনাজাতে অংশগ্রহণ ছিলো চোখে পড়ার মতো।

আখেরি মোনাজাতকে ঘিরে যানবাহনের বাড়তি চাপ মোকাবেলায় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে নেয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। মোনাজাত পর্যন্ত কয়েকটি সড়ক- মহাসড়কে ভোর ছয়টা থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত, আশুলিয়া মহাসড়কের বাইপাইল থেকে আব্দুল্লাহপুর এবং কামারপাড়া সড়কে সাধারণ যানচলাচল বন্ধ রাখা হয়। আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে অতিরিক্ত ট্রেন ও বাসের ব্যবস্থা করা হয়।

এর আগে ফজরের নামাজের পর বয়ান করেন দিল্লির নিজামুদ্দিনের মাওলানা মোহাম্মদ মোরসালিন। সকালে হেদায়াতি বয়ান করেন মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্দলভি।

এই বয়ান বাংলায় অনুবাদ করেন মাওলানা জিয়া বিন কাসিম।

সকাল থেকেই ইজতেমায় অংশ নেওয়া কয়েক লাখ মুসল্লি ইজতেমায় শামিয়ানার নিচে অবস্থান করে ইসলামের আমল, আকীদা ও করণীয় বিষয়ে জ্যেষ্ঠ মুরব্বিদের বয়ান শুনেন।

এই পর্বের বিশ্ব ইজতেমায় অর্ধ শতাধিক দেশের প্রায় আটহাজার বিদেশি মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ইজতেমায় আসা লাখ লাখো মানুষ আখেরি মোনাজাতের পর  ফেরেন তাদের বাড়িতে।

ইজতেমা থেকে কোরআন ও সুন্নাহ’র ঈমান আকিদা বিষয়ে শিক্ষা নিয়ে মুসলিম উম্মার পারলৌকিক মঙ্গলের লক্ষ্যে দেশ-বিদেশে তাবলীগের অনেক সদস্য ইসলামের দাওয়াতের কাজে আবারো ছড়িয়ে পড়বেন। অন্যদিকে এই ইজতেমা আয়োজন নিয়ে বিদেশি মুসুল্লীরা বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়