হাসপাতালে ঘুমন্ত মায়ের পাশ থেকে নবজাতক চুরি

প্রকাশিত: জানুয়ারী ১৮, ২০২৩, ০৭:১৬ বিকাল
আপডেট: জানুয়ারী ১৯, ২০২৩, ০১:১৭ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ইউনিট-৩ থেকে নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটেছে। চুরির এক ঘণ্টার মধ্যে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় এক যুবক নবজাতককে উদ্ধার করে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে পুলিশকে জানান। এ সময় এক নারীকে আটক করা হয়।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, নগরীর কাউনিয়ার বাসিন্দা সন্তানসম্ভবা কাকলী বেগমকে ১৬ জানুয়ারি শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৭ জানুয়ারি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। এটি তার প্রথম সন্তান।

আটককৃত নারী বরিশাল সদর উপজেলার বাসিন্দা। নিঃসন্তান হওয়ায় ওই শিশুকে চুরি করেছেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তিনি।

কাকলী বেগমের স্বামী হেলাল বেপারি বলেন, ‘বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুত্রসন্তানকে মায়ের কাছে রেখে বাসায় যাই। পরে সন্তান মায়ের পাশে ঘুমিয়ে ছিল। মাও ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তাদের পাশে থাকা আমার বোন গিয়েছিলেন টয়লেটে। এ সুযোগে মায়ের পাশ থেকে শিশুটিকে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে আসি।’

হেলাল বেপারি বলেন, ‘এত বড় হাসপাতালের ওয়ার্ডে কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে সহজে চোর শনাক্ত করা যেতো। এসব চুরি ও অপরাধ বন্ধে হাসপাতালে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো উচিত।’

নবজাতকের ফুফু নিরু বেগম বলেন, ‘মায়ের পাশে নবজাতক ঘুমিয়ে ছিল। আমি টয়লেটে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে নবজাতককে না দেখে তার মাকে ঘুম থেকে তুলি। তখন তার মা কিছু বলতে পারছিলেন না। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি নার্সদের জানাই। নার্সরা ৯৯৯ নম্বরসহ হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানান। এর এক ঘণ্টা পর নবজাতককে উদ্ধারের খবর পাই। উদ্ধারকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

নবজাতককে উদ্ধারকারী শাহাদাত মাসুম বলেন, ‘অফিস থেকে নগরীর আমানতগঞ্জ বাসায় যাচ্ছিলাম। এ সময় পার্কে ওই নারী শিশুটিকে বারবার লুকাচ্ছিলেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। তখন কাছে গিয়ে ওই নারীকে জিজ্ঞাসা করি শিশুটি কার। তখন তিনি শিশুটিকে মাটিতে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করি। এরপর ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানাই। শিশুটিকে উদ্ধারের পর খুব দুর্বল মনে হচ্ছিল। কান্না করতে পারছিল না। পরে তাকে দুধ পান করাই।’

মাসুম আরও বলেন, ‘৯৯৯ থেকে কোতোয়ালি মডেল থানাকে শিশু উদ্ধারের বিষয়টি জানানো হয়। থানা থেকে আবার আমানতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িকে জানানো হয়। তখন নবজাতক এবং ওই নারীকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।’

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আজিমুল করিম বলেন, ‘নবজাতককে উদ্ধারের পর উপ-পুলিশ কমিশনারের মাধ্যমে মায়ের কোলে তুলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নবজাতকের বাবা মামলা করবেন বলেছেন। ওই মামলায় আটক নারীকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার আলী আশরাফ ভূঁইয়া বলেন, ‘নবজাতককে মায়ের কোলে তুলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ওই নারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়