দুপচাঁচিয়ায় গো-খাদ্যের সংকটে চরম বিপাকে গরুর মালিকরা

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ০২, ২০২২, ১০:৫৪ রাত
আপডেট: ডিসেম্বর ০২, ২০২২, ১০:৫৪ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন


দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি: দুপচাঁচিয়া উপজেলায় গো-খাদ্যে খড়ের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। চড়া দামে খামারিরা খড় কিনলেও অভাবের তারণায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক গরুর মালিকরা খড় কিনতে পারছেন না। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন গরুর মালিকরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গবাদী পশু পালনকারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার খামারিসহ গরুর মালিকরা গো-খাদ্যের চরম সংকটে ভুগছেন। তারা বর্তমানে বৈরী সময় পার করতে খড়ের পরিবর্তে বাঁশপাতা, কলাপাতা, কচুরিপানা, গাছের পাতা সংগ্রহ করে গরুর খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে কম মূল্যে গরু বিক্রিও করছেন। খড়ের মূল্য বেশি প্রসঙ্গে তারা বলেন, শ্রমিকের মূল্য বেশি হওয়ায় কৃষকরা মেশিনের সাহায্যে জমিতে বেশীভাগ খড় রেখে শুধুমাত্র শীষসমেত খড় কেটে আনেন। তাছাড়াও মাড়াই মেশিন দিয়ে এই ধান মাড়াই করায় কৃষকরা তেমন খড় মজুত করতে পারেন না।

ফলে জমিতে পরিত্যক্ত থাকা ওই খড়গুলো অল্প বৃষ্টির পানিতেই পঁচন ধরে। তাছাড়াও যে পরিমাণ খড়গুলো পালা করে রাখে, তার বেশীরভাগ খড়ই নষ্ট হয়ে যায়। এ কারনে কৃষকেরও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। তালোড়া খানপুর গ্রামের খামারি ওয়াহেদ আলী, কঞ্চিগাড়ি গ্রামের মতিউর রহমান, জিয়ানগর জলঙ্গী গ্রামের জাকের আলী, জিয়ানগরের আজিজুল হক মাস্টারসহ অনেকেই জানান, গত বছরের খড়ের দামের চেয়ে এবার খড়ের দাম অনেক বেশি। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে পালা হিসেবে প্রকার ভেদে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে ক্রয় করছেন। যা অন্যান্য বারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।

এছাড়াও বর্তমানে বোরো আমন জমির বিঘাপ্রতি ৩ হাজার টাকা চুক্তিতে খড় কিনে রেখেছেন। ফলে এক দিকে যেমন খড়ের অগ্নিমূল্য, অন্যদিকে খড়ের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। বোরো আমন ধান কাটা-মাড়াই শেষ হলেই এই সংকট থাকবে না বলে অনেকেই আশা করছেন। আজ শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা নাছরিন পারভীন জানান, উপজেলায় ১ লাখ ৩ হাজার ৯২৯ টি গবাদি পশু রয়েছে।

এর মধ্যে দেশি গরু ৩১ হাজার ১শ ১৫টি, উন্নত বা সরল জাতের গরু ১৭ হাজার ৬শ ৯৪টি, বাঁকি গুলো ষাঁড়, বকনা ও বাছুর। এইসব গরুর খামারি ও কৃষকরা গো-খাদ্য সংকটের কারণে খড় কিনে লাভবান হতে পারছেন না বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, খড়ের উপর নির্ভরশীল না হয়ে গো-খাদ্য হিসাবে ঘাঁশের উপর খামারি সহ কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রাণি সম্পদ দপ্তরের প্রদর্শনী প্লটের ঘাঁস বিনামুল্যে খামারিদের সরবরাহ করছেন।

ঘাঁস গরুর হজমশক্তিসহ প্রজনন ক্ষমতা বাড়ায়, সুস্থ ও সবল রাখে। ৪ শতক জমিতে ঘাঁস চাষ করলে কেজিতে সর্বচ্চো ১  টাকা খরচ হয়ে থাকে। তুলনামুলক খরচ কম হওয়ায় কৃষকসহ খামারিরা গো-খাদ্য সংকট থেকে যেমন রক্ষা পাবে তেমনি তারা লাভবানও হবে। তিনি প্রত্যক খামারি ও কৃষকদেরকে গরুর পুষ্টির অভাব দুর করতে গরুর খাদ্য হিসাবে ঘাঁস চাষ করার পরামর্শ দেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়