গোবিন্দগঞ্জের বাঙ্গালী নদীচরের মিষ্টি আলুক্ষেতে অজানা ভাইরাস

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৫, ২০২২, ০৯:০২ রাত
আপডেট: নভেম্বর ২৫, ২০২২, ০৯:৩৭ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

মহিমাগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: উপজেলার বাঙ্গালী নদীর পরিত্যক্ত চর এলাকার ভাগ্যবদল করা কন্দল জাতীয় ফসল মিষ্টি আলুর ক্ষেতে অজানা রোগের ভাইরাসের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। ওই আলু চাষের কল্যাণে ‘সুখেরচর’-এ পরিণত হওয়া এক সময়ের ‘দু:খেরচর’ নামের বিস্তীর্ণ জমিতে চাষ করা আলুর ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা। পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে অল্প পরিমাণে আক্রান্ত জমিতে রোগাক্রান্ত গাছ উঠিয়ে ফেলে নতুন করে চারা প্রতিস্থাপন করছেন চাষিরা।

কিন্তু অধিক সংখ্যক গাছে আক্রান্ত জমির মালিকরা উঠতি ক্ষেতের আলুর গাছ উপড়ে ফেলে বিকল্প রবিশস্য আবাদে বাধ্য হচ্ছেন। গতকাল শুক্রবার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যদিয়ে বয়ে যাওয়া বাঙ্গালী নদীতীরবর্তী রাখালবুরুজ, মহিমাগঞ্জ ও সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে এমন চিত্র।

উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের চরবালুয়া গ্রামের কৃষক ফেরদৌস আলম জানান, মাত্র তিন মাসে আবাদযোগ্য কন্দল জাতীয় এই মিষ্টি আলু গত এক যুগে এই এলাকার কৃষি অর্থনীতিতে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়েছে। তেমন কোন উৎপাদন খরচ ছাড়াই উৎপাদিত আলু দেশের বিভিন্ন স্থানে রফতনি হওয়ায় চাষিরা সুখের মুখ দেখেছিলেন। এ কারণে চলতি বছর আরও অধিক পরিমাণ জমি এই মিষ্টি আলুচাষের আওতায় আনা হয়। কিন্তু আক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আলু রোপণ করার পর থেকেই বারি-৮ জাতের আলুর পাতায় অজানা এক ভাইরাসের আক্রমণ দেখা দেয়।

এতে পাতা কুকড়ে গিয়ে বিবর্ণ হয়ে যায়। এর ফলে ওই গাছগুলো বেঁচে থাকলেও তাতে আর আলু ফলবে না বলে মনে করছেন তারা। ধীরে ধীরে অন্যান্য জাতের আলুগাছেও একই ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ায় চলতি মৌসুমে মারাত্মক ফলন বিপর্যয় হবে বলে আশঙ্কা করছেন আলুচাষিরা।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম মুরাদ জানান, এটি একটি বীজবাহিত ভাইরাস। বর্তমান পরিস্তিতিতে আক্রান্ত গাছগুলো অপসারন করে এই সমস্যার সমাধান করতে চাষিদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।  

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়