নতুন কাপড় কিনে দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে ২ শিশুকে হত্যা করল পাষন্ড পিতা

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৫, ২০২২, ০৭:২৯ বিকাল
আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০২২, ১২:০৪ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বিরলে নতুন কাপড় কিনে দেয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নিজ ২ শিশু সন্তানকে বিষপান করিয়ে হত্যা  করেছে পাষন্ড পিতা। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আজ শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) সকালে বিরল থানা পুলিশ ৯৯৯ থেকে সংবাদ উপজেলার বিজোড়া ইউনিয়নের ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত কক্ষ থেকে ওই দুই সহোদর শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর এমএআর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত দুই শিশু বিরল পৌরসভার শংকরপুর ঘোড়াপীর এলাকার আইসক্রিম বিক্রেতা শরিফুল ইসলামের ছেলে রিমন (৭) ও ইমরান (৩)। ইমন বাড়ির পাশে হযরত আলী (রা.) দারুল উলুম হিফজুল কুরআন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। ঘটনার পর থেকে পাষন্ড পিতা শরিফুল পলাতক রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাবা শরিফুল ইসলাম তার দুই সন্তানকে কাপড় কিনে দেয়ার জন্য বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে বাসায় ফিরে না এলে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাদের পাওয়া যায়নি। আজ শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) সকালে বাবা নিজেই শিশুদের দাদা রফিকুল ইসলামকে ফোন করে ওই বিদ্যালয়ে ২ সন্তানের জনের লাশ আছে বলে জানায়। খবর পেয়ে স্থানীয়রাসহ পরিবারের লোকজন সেখানে গিয়ে বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত একটি কক্ষে বস্তাবন্দি লাশ ও পাশে একটি বিষের বোতল পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে সেখান থেকে ২ শিশুর লাশ ও বিষের একটি খালি বোতল উদ্ধার করে।

নিহত শিশুদের স্বজনরা জানায়, বিরল পৌরসভার শংকরপুর গ্রামের ঘোড়াপীর এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩৪) একই উপজেলার শগরগ্রাম ইউনিয়নের নাড়াবাড়ী এলাকায় উম্মে কুলসুম নামের এক মেয়েকে বিয়ে করে ঘর সংসার করতে থাকে। তাদের দাম্পত্য জীবনে তাদের কোলে ফুটফুটে দুটি সন্তান আসে। বড় ছেলে ইমন (৭) ও ছোট ছেলে ইমরান (৩)। মাঝে মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয়ে ঝগড়া বিবাদ হলে শরিফুলের স্ত্রী বাবার বাড়ি নাড়াবাড়িতে চলে যেত এবং আবার কিছুদিন পরে স্বামীর বাড়ি চলে আসতো। এভাবেই চলতে থাকে তাদের সংসার।

শরিফুল ইসলাম ফেরি করে আইসক্রিম বিক্রি এবং অফ মৌসুমে কৃষি কাজ করে সংসার পরিচালনা করছিল। প্রায় ৩ মাস আগে স্বামীর সাথে ঝগড়া করে স্ত্রী উম্মে কুলসুম স্বামী সন্তান ফেলে বাবার বাড়ি চলে যায় এবং কিছু পরে তার বড় বোনের সূত্রধরে গাজীপুরের সফিপুরে একটি গার্মেন্টসে শ্রমিক হিসেবে কাজ নেয়। ২০ থেকে ২৫ দিন আগে শরিফুল তার স্ত্রীকে আনতে গিয়ে ফেরত আসে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে শরিফুল তার দুই সন্তানকে সাথে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়িতে ফিরেনি।

এদিকে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসলাম উদ্দিন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে পরিবারিক কলহের জেরে শিশু ২টির পিতা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। তবে শিশু দুটির পিতাকে খুঁজে পাওয়া গেলে প্রকৃত রহস্য জানা যাবে। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়