শজিমেক শিক্ষার্থী ফাইম ছুরিকাঘাত ঘটনার

৫ ঘন্টার মধ্যেই পিতা-পুত্র গ্রেফতার, চাকু উদ্ধার 

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২২, ০৮:২৭ রাত
আপডেট: নভেম্বর ২৫, ২০২২, ১১:১৮ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের  এম,বি,বি,এস ৪র্থ বর্ষের ছাত্র মেহেরাজ হোসেন ফাহিমকে ছুরিকাঘাতের জড়িত থাকার অভিযোগে চাকুসহ বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো: শরাফত ইসলাম ও ডিবি বগুড়া’র ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো: সাইহান ওলিউল্লাহ’র নেতৃত্বে ডিবি বগুড়া ও সদর থানা পুলিশের যৌথ  টিম গত বুধবার রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকা ও সোনাতলা উপজেলার বালুয়াহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। 

গ্রেফতারকৃতরা হলো শহরের মালগ্রাম চাপড়পাড়ার  মৃত মনছুর বেপারীর ছেলে মো: ফরিদ ব্যাপারী (৫১) এবং তার ছেলে মোঃ শাকিল ব্যাপারী (২৬)। এ সময় এদের কাছ থেকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় মেডিকেল শিক্ষার্থী  ফাহিম শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হোস্টেল হতে বের হয়ে মেডিকেল কলেজ গেট দিয়ে খান্দার নতুন রাস্তার মোড়ে নাস্তা খাওয়ার জন্য যান। সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে তিনি খান্দারগামী ওই রাস্তার মোড়ে শাকিল ব্যাপারী ও ফরিদ ব্যাপারী দোকানে ভাজা পোড়ার দোকানে গিয়ে নাস্তা খাচ্ছিলেন। এ সময় আলুর চপের মধ্যে ময়লা থাকাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ফাহিমের সাথে ফরিদ ব্যাপারীর কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ফরিদ শিক্ষার্থী ফাহিমকে ধাক্কা মারে এবং  শাকিল ব্যাপারী পিয়াজ কাটার চাকু দিয়ে ফাহিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার বাম পাজরে স্বজোরে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এতে ফাহিম চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় ঘটনায় জড়িত ওই বাবা ও ছেলে পালিয়ে যায়। এরপর সেখানে উপস্থিত মেডিকেল কলেজের অন্যান্য ছাত্রসহ স্থানীয় লোকজন ফাহিমকে রক্তাক্ত গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। আহত ফাহিম ঢাকার সবুজবাগের নূর মোহাম্মদের ছেলে।

এ দিকে,ফাহিমের ওপর হামলার ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি উপ্তপ্ত হয়ে পড়ে। রাতেই মেডিকেল শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নেমে পড়েন। তারা আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন। এ সময় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজেল অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা: রেজাউল আলম জুয়েল সেখানে এসে শিক্ষার্থীদের সাথে একত্মতা প্রকাশ করেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।

খবর পেয়ে সদর থানার ওসি মো: নূরে আলম সিদ্দিকী সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় ওসি দ্রুত আসামীদের গ্রেফতারে আশ্বাস দেন। এরপর এই আশ্বাসের ৫ ঘন্টার মধ্যেই ডিবি ও সদর থানা পুলিশের একটি যৌথ টিম ঘটনায় জড়িত ওই ২ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর গতকাল তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অপরদিকে, তার অবস্থা এখন শংকামুক্ত বলে শজিমেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা: রেজাউল আলম জানিয়েছেন আজ (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়