বাঘাবাড়িতে হত্যা মামলার প্রধান আসামি চার বছর পর গ্রেফতার

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৩, ২০২২, ০৮:৫৮ রাত
আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০২২, ০৮:৫৮ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: চার বছর আগে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়িতে ট্রাক চালক খুলনা থেকে হত্যা মামলার মূল আসামি রফিকুল ইসলাম হ্যাপীকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। গত রোববার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খুলনা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সিরাজগঞ্জ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় হ্যাপী। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ পিবিআই’র পুলিশ সুপার রেজাউল করিম প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ২০১৯ সালের ১৮ মার্চ নাটোর কিষোয়ান এগ্রো লিমিটেডের ট্রাক চালক সাহাব উদ্দিন (৫০) ও হেলপার ইলিয়াস (২০) ঢাকার মেঘনা ফ্রেস কোম্পানি থেকে বিকেল ৪টায় ৬০ ড্রাম সুপার পাম্প তেল নিয়ে নাটোরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে চোরাই তেল চক্রের খপ্পরে পড়ে ড্রাইভার ও হেলপার। পরে তাদের হত্যা করে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বাঘাবাড়িতে ত্রিপল দিয়ে ট্রাক ঢেকে রেখে চক্রটি ৪৪ ড্রাম তেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে শাহজাদপুর থানা পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধারসহ অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় কিষোয়ান লিমিটেডের পক্ষে মামুন হোসেন বাদি হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই’র ওপর ন্যাস্ত হয়। পিবিআই তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক গোলাম কিবরিয়া জানান, তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে মামলাটির মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের দেয়া তথ্য মতে ১৯ ড্রাম সুপার পাম্প তেল উদ্ধার করে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে থেকে দুইজন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। আসামিদের দেয়া তথ্য মতে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার চোরাই তেল চক্রের একজনের কাছে তেল বিক্রির জন্যই ট্রাকটি নাইমুড়িতে যায়। কিন্তু আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা চক্রটি ড্রাইভার ও হেলপারকে জিম্মি করে ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাদের হত্যা করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তাদের আরো তথ্য মতে জানা যায়, এ মামলার মূল আসামি হ্যাপী। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা। কিন্তু তার প্রকৃত ঠিকানা সেই মুহূর্তে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে আরো গভীর তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত চুয়াডাঙ্গা আলোকদিয়া থানার রফিকুল ইসলাম হ্যাপীকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়। তবে হ্যাপী ঘন ঘন স্থান পরিবর্তনের কারণে তাকে গ্রেফতার করতে খানিকটা সময় লাগে। ইতোমধ্যেই হ্যাপী স্বীকার করেছে যে, ড্রাইভার সাহাব উদ্দীন ও হেলপার ইলিয়াসকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এ বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে সে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়