রেলিং ভাঙা সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৩, ২০২২, ০২:২৮ দুপুর
আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০২২, ০২:২৮ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের গঙ্গাচড়া বাজার থেকে বেতগাড়ী বাজার পর্যন্ত রাস্তার মধ্যে ভূটকা মোড় এলাকার মঙ্গলা ডুবের বিলের ওপর প্রায় ৪০ বছর আগে সেতু নির্মাণ করে রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এখন সেতুটি দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভেঙে গেছে সেতুর রেলিং। স্ল্যাবের মাঝখানে গর্ত হয়ে গেছে। ফাটল দেখা দিয়েছে বিভিন্ন অংশে। ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে পথচারীরা।

স্থানীরা জানান, সেতুটি দিয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও রংপুর সদরের দুই ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। সেতুটির ওপর দিয়ে ছোট-বড় প্রায় তিন হাজার যানবাহন চলাচল করে। ইতিমধ্যে সেতুর দুই ধারের রেলিং ভেঙে গেছে, বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। চলাচলের বিকল্প পথ না থাকায় লোকজন ট্রাক, মাইক্রোবাস, রিকশা-ভ্যানে ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু পারাপার হচ্ছেন। যেকোনো মুহূর্তে সেতুটি ধসে পড়ে হতাহতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন। প্রায় চার মাস আগে গঙ্গাচড়া বাজারের বীজ ব্যবসায়ী মাহের আলী রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সেতু থেকে পড়ে মারা যান। স্থানীয়দের ধারণা, রেলিং ভাঙা থাকার কারণে পড়ে গিয়ে মাহেরের মৃত্যু হয়েছে।

গঙ্গাচড়া সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া বলেন, আমরা প্রতিদিন এই ব্রিজ পার হয়ে স্কুলে যাই। ব্রিজটা পার হওয়ার খুব ভয় করে। 

উপজেলার ভূটকা গ্রামের গালামাল ব্যবসায়ী লেবু মিয়া বলেন, ‘ব্রিজখান সেই তিন-চার বছর ধরি এমনেই আছে, কারও কোনো খোঁজ নাই। রংপুর থাকি দুই বছর আগত আসি কয়েকজন লোক একটা সাইনবোর্ড লাগে দিছে আর ব্রিজটির মাঝখানে টিন দিয়া ঢাকি দিছে। তখন থাকি এমনেই আছে। ব্রিজের ওপর উঠলে ভয় লাগে, কখন জানি ভাঙি পরে।’ 

গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাজু আহমেদ লাল বলেন, সেতুটি দিয়ে প্রায় চার বছর ধরে গঙ্গাচড়া সদর, বড়বিল, বেতগাড়ীসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। আমরা অনেকবার বলার পরও শুধু আশ্বাস দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

রংপুরের সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহকারি প্রকৌশলী মাহাবুব আলম বলেন, সেতুটি পুনরায় নির্মাণের জন্য নথি সড়ক ভবনে অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করব।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়