দিনাজপুরে অসময়ে ‘অমৃত’ আম

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৩, ২০২২, ০২:১৪ দুপুর
আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০২২, ০২:১৪ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

দিনাজপুর প্রতিনিধি : শুধু গ্রীস্মকাল নয়, এখন সারাবছর গাছ থেকে মিলছে সুস্বাদু আম। দিনাজপুরে প্রথমবারের মত বাণিজ্যিকভাবে ‘কাটিমন’ জাতের আমের বাগান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক কৃষক। এই কাটিমন আম বারোমাস সংগ্রহ করা যায় বলে এর চাহিদা রয়েছে বিশ্ব জুড়ে। অসময়ে এই আম উৎপাদন হওয়ায় এখন চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বাগানের এই আম। কাটিমন আম বাগানে সব ধরনের সহযোগিতা করছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ। অসময়ের এই কাটিমন জাতের আমকে ‘অমৃত’ আমও বলছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। 

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার শহরগ্রাম ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে গতকাল গিয়ে দেখা যায়, একই গাছে কোথাও মুকুল আবার কোথাও পাকা আমসহ বিভিন্ন আকারের আম ঝুলছে থোকায় থোকায়। শরীরে শীতের অনুভুতি মিললেও বাগানো থোকা থোকা আম দেখে মনে হচ্ছিল এ যেন গ্রীস্মকাল।

অসময়ের এই আমের কথা জিজ্ঞেস করতেই বাগান মালিক মমিনুল ইসলাম জানান, এটি কাটিমন আম। বছরের বারো মাসেই উৎপাদন করা যায় এই আম। তিনি জানান, কাটিমন জাতের এই আম বারো মাস গাছ থেকে সংগ্রহ করা যায় বলে এই আম বেশ জনপ্রিয় ছাদবাগান বা সৌখিন বাগানীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এবারই প্রথম দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে কাটিমন আমের বাগান গড়ে তুলেছেন কৃষক মমিনুল ইসলাম। উপজেলার শহরগ্রাম ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে তিনি প্রায় তিন বছর আগে দুই একর জমিতে এই বাগান করেছেন এবং ব্যপক ফলনও হয়েছে। তার বাগানের প্রায় এক হাজার আম গাছ থেকে এরই মধ্যে তিনি আম সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন। এই অসময়ে প্রতি কেজি কাটিমন আম বিক্রি করছেন চারশ’ থেকে সাড়ে চারশ’ টাকা দরে। কাটিমন সুস্বাদু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কৃষক মমিনুল ইসলামের বাগানে জৈবিক পদ্ধতিতে আম উৎপাদন করছেন। তাই দেশের বাহিরে রপ্তানি করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

এদিকে মমিনুলের এই সাফল্য দেখতে অনেকে বাগান পরিদর্শন করছেন। এমন বাগান করার পরিকল্পনাও নিচ্ছেন অনেকে। 

বাগান দেখতে আসা বিরল উপজেলার মামুনুর রশিদ জানান, অসময়ে এই আমের কথা শুনেই তিনি এসেছেন আমের বাগানের আম দেখতে। বাগানের আম দেখে তিনিও স্বপ্ন দেখছেন এই আমচাষের।  

বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম জানান, বেশ সুস্বাদু হওয়ায় এই কাটিমন জাতের এই আমকে অমৃত আমও বলা হয়। তিনি জানান, এই অঞ্চলের মাটি কাটিমন আমের জন্য বেশ উপযোগী। এই আম আবাদের সম্প্রসারণ করে বিদেশে রফতানীরও পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। 

কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম বলেন, বিরল উপজেলায় ৬ একর জমিতে কাটিমন আমের বাগান রয়েছে এবং কৃষকদের এই আমচাষে উৎসাহিত করছেন তারা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়