বগুড়ায় ৪ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা, মালিককে সম্পত্তি বুঝিয়ে দিল জেলা প্রশাসন

প্রকাশিত: নভেম্বর ২০, ২০২২, ০৭:২৫ বিকাল
আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০২২, ০৭:২৭ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়া সদরের লাফহড়ীপাড়া ইউনিয়নের দোবাড়িয়া মৌজার প্রায় চার কোটি টাকা মূল্যের পোনে ১২ বিঘা সম্পত্তিতে থাকা ৫টি জলাশয় এর প্রকৃত মালিক সাদিকা নাছিম বানুকে দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন বগুড়া জেলা প্রশাসন।

গত ১৬ নভেম্বর জেলা প্রশাসক বগুড়ার আদেশক্রমে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেখানে পুলিশসহ উপস্থিত হয়ে তাকে এই জলাশয়গুলো বুঝিয়া দেন। সেইসাথে সেখানে আদেশ জারি করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি লাল সাইনবোর্ডও ঝুলিয়ে দেয়া হয়। এতে লেখা আছে, জেলা প্রশাসন বগুড়ার আদেশক্রমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বগুড়া সদর উপজেলা কর্তৃক ভূমি অফিস বগুড়া নিম্ন তফসিল জলাশয়ের দখল মালিক মোছা: সাদিকা নাছিম বানু পিতা মৃত সাদিকুল ইসরাম জলেশ্বরীতলা বগুড়াকে বুঝিয়ে দেয়া হলো।

এর আগে শহরের জলেশ্বরীতলার মৃত সাদিকুল আলমের মেয়ে সাদিকা নাছিম বানু নিজ মালিকানায় দখলে থাকা তফসিল সম্পত্তিতে দুস্কৃতকারীদের জোরপূর্বক অনু প্রবেশ এবং দখলের অপচেষ্টায় এলাকায় শান্তি ভঙ্গের আশংকা ও জীবন নাশের ঝুঁকির বিষয়ে বগুড়া জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ আইন শৃংখলা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন,তার নানা দোবাড়িয়ার মরহুম ময়েজ উদ্দিন ( জে.এল নং ৪৯, আর এস. খতিয়ান নং ৫৩৩ ও ৭৮১, দাগ নং ২৫৩,৪১৫,৯৫৯,১৪১১ ও ১৭৮৯ শ্রেনি: জলাশয় ও ডোবা, মোট পরিমাণ ৩.৪৬ একর) এই সম্পত্তির মালিক ও দখলদার ছিলেন।

উক্ত সম্পত্তি তার ভোগ দখল থাকাকালে তাঁর নামে এম.আর.আর খতিয়ান ও আর এস খতিয়ান প্রস্তুত হয়। তার মৃত্যু’র পর তিনি (সাদিকা নাছিম বানু) ও তার ওয়ারিশগণ উক্ত সম্পত্তির ভোগ দখলরত অবস্থায় হাল সন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত সরকারের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে আসছেন।

সাদিকা নাছিম বানু অভিযোগ করেন,সম্প্রতি কিছু ভূমি দস্যূ বেআইনীভাবে পেশি শক্তির ভয় দেখিয়ে আলোচ্য তফশিল সম্পত্তি ওই জলাশয়গুলো হতে আবেদনকারিকে বেদখল দেয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দিচ্ছে। সেইসাথে জলাশয়ে বিষ ঢেলে মাছ মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে।

এব্যাপারে তিনি সদর থানায় জিডি ( সাধারণ ডায়েরী) করেছেন। সদর থানার এসআই মো: আব্দুল মালেক এই জিডি’র অভিযোগের বিষয়ে সতত্যা পেয়েছেন এবং এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করেছেন।

এরপর এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দোবাড়িয়া মৌজার জলাশয়ের মালিকানা কেন্দ্র করে  বিদ্যমান পরিস্থিতি নিরসনে সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো: নাছিম রেজাকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে মরহুম ময়েজ উদ্দিন প্রামাণিক হতে সাদিকা নাছিম বানু পর্যন্ত জমি হস্তান্তর বিশ্লেষণে তর্কিত সম্পত্তির মালিক সাদিকা নাছিম বানু সঠিক মর্মে মতামত দেয়া হয়।

এই তদন্ত প্রতিবেদনটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। সেইসাথে সমস্ত দালিলিক প্রমাণাদি পর্যলোচনান্তে জমির প্রকৃত রেকর্ডীয় মালিক সাদিকা নাছিম বানুকে জমির দখল বুঝিয়ে দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া উক্ত জমির ভোগ দখলকে কেন্দ্র করে কোন সুযোগ সন্ধানী গ্রুপ কিংবা অসাধু চক্র যেন আইন-শৃংখলা পরিস্তিতির অবনতি ঘটতে না পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আইন শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীকে নির্দেশানার বিষয়েও সুপারিশ করা হয়। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন।

এরপর গত ১৬ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের আদেশে সহকারি কমিশনার (ভূমি) সেখানে পুলিশের উপস্থিতিতে সাদিকা নাছিম বানুকে দখল বুঝিয়ে দিয়ে উল্লেখিত নোটিশ বোর্ড লাগিয়ে দেন। সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পাল গতকাল দৈনিক করতোয়াকে বলেন, এর আগে এ বিষয়ে সাদিকা নাছিম বানু প্রতিকার চেয়ে জেলা ও উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির কাছে অভিযোগ করেন। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সহকারি কমিশনার (ভূমি)কে প্রধান করে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির তদন্তে ৩ দশমিক ৪৬ একর এর উপর থাকা উল্লেখিত জলাশয়গুলোর প্রকৃত মালিক সাদিকা নাছিম বানু তা প্রমাণিত হয়।

এরপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সেখানে গিয়ে তার জায়গা বুঝিয়ে দিয়ে ওই সাইন বোর্ড লাগানো হয়। এ ব্যপারে গতকাল সাদিকা নাছিম বানু বলেন, তিনি ৩ দশমিক ৪৬ একর সম্পত্তি ( ৫টি জলাশয়) বুঝে পেয়েছেন। সেইসাথে এই জলাশয়গুলো তিনি ইতোমধ্যে জালাল উদ্দিন শেখ ও মো: সোহাগ হোসেনসহ তিনজনকে ইজারা দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়