অবশেষে ধরা পড়লো বগুড়ার হাড্ডিপট্টির মাদক সম্রাজ্ঞী আঁখি : ৬টি সিসি ক্যামেরা জব্দ

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৫, ২০২২, ১০:৫৫ রাত
আপডেট: নভেম্বর ১৬, ২০২২, ১১:০২ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

স্টাফ রিপোর্টার: অবশেষে ধরা পড়লো বগুড়া শহরের হাড্ডিপট্টি এলাকার মাদক সম্রাজ্ঞী আঁখি (৩৫)। দৈনিক করতোয়া’য় হাড্ডিপট্টির মাদক কারবার নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়ার সদস্যরা আজ মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সেখানে অভিযান চালিয়ে ১৫৫ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ৬টি সিসি ক্যামেরা, ডিবিয়ার ও ৩টি মোবাইল ফোনসহ তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার সহযোগী দেবর নাহিদকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। আঁখি গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর  ইব্রাহীম খানের নেতৃত্বে এসআই আবির হাসানসহ অধিদপ্তরের সদস্যরা হাড্ডিপট্টি এলাকায় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানকালে উল্লেখিত মাদকদ্রব্য, সিসি ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনসহ তাদের গ্রেফতার করে।

এসআই আবির জানান, আঁখি ও তার সহযোগীরা তাদের বাড়ি ও আশপাশে বিভিন্ন খুঁটিতে সিসি ক্যামেরা মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে আঁখি ও তার সহযোগীরা আইন শৃংখলা বাহিনীর গতিবিধি লক্ষ্য করে মাদকের কারবার করছিল। অভিযানকালে সেখান থেকে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধারের পাশাপাশি আঁখির বাড়ি ও খুঁটিগুলোতে মই লাগিয়ে সিসি ক্যামেরাগুলো খুলে নিয়ে জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া তার সাথে ধরা পড়া তার দেবরের নাম নাহিদকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। নাহিদ হাড্ডিপট্টি এলাকার বাসিন্দা।

কে এই আঁখি?
আঁখি বেগম (৩৫) হাড্ডিপট্টি এলাকার সাজ্জাদুল হক নূরের স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে রয়েছে প্রায় হাফ ডজন মাদক মামলা। হাড্ডিপট্টি এলাকার প্রতাপশালি একজন মাদক কারবারি সে। মাদক সেবনকারীরা তাকে ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ বলে ডাকে। হাড্ডিপট্টিতে আঁখি,তার স্বামী নূর, দেবর নাহিদ  ও তার অন্যান্য সহযোগীরা মিলে গড়ে তুলেছে মাদক কারবারের বিশাল নেটওয়ার্ক। যতবারই সে ধরা পড়ে ততবারই সে আইনের ফাঁক ফোকর গলিয়ে জেল থেকে ছাড়া পায়। আর জেল থেকে ছাড়া পেয়েই ফের পুরোনা কারবার মাদক ব্যবসায় যুক্ত হয়ে পড়ে।

হাড্ডিপট্টিতে সে গত তিন বছর ধরে ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল এর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। তার নিজস্ব সোর্স রয়েছে। সেইসাথে তার রয়েছে ‘গৃহ পালিত’সন্ত্রাসী বাহিনীও। এলাকার কেউ যদি তার মাদক ব্যবসা নিয়ে একটু কথা চেষ্টাও করে তাহলে তার ওপর নেমে আসে নির্যাতনের স্টিম রোলার। সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে তার মুখ বন্ধ করে দেয়। আঁখি ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচার-উপদ্রবে হাড্ডিপট্টির শান্তিকামী মানুষ অতিষ্ট হয়ে পড়েছিলেন।

‘মান্নান’ নামে পুলিশের এক বরখাস্তকৃত সাবেক কনস্টেবল তাকে সহযোগিতা করে। পুলিশের অভিযানের খবর আগে ভাগেই তাকে পৌঁছে দেয় মান্নান নামে ওই সোর্স। যে কারণে এত দিনেও আঁখি ধরা পড়ছিল না। অবশেষে সে ধরা পড়েছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের হাতে। আঁখি গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে। এলাকাবাসি জানান, সেখানে শুধু আঁখিই নয়, রয়েছে তার সহযোগী আরও মাদক কারবারি। তাদেরও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়