ডোমারের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের শেখ সাহেবের বাঁশঝাড় পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২, ০৭:৪১ বিকাল
আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২, ১২:৪৪ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

মো: মোজাফ্ফর আলী, ডোমার (নীলফামারী): চারদিকে সবুজের সমারোহ। মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে একটি মস্তবড় কড়ই গাছ তার পাশেই বাঁশঝাড়। ওই বাঁশঝাড় থেকে উঁকি দিচ্ছে পানকৌড়িসহ ধবল বক, ডাহুক, কোড়া, রাতচরা, ঘুঘু, শ্যামা, দোয়েল, শালিকসহ নাম না জানা আরও অনেক পাখি। বিকেলের সোনালী রোদে গাছের ডালে ডালে পানকৌড়ির পালক জ্বলজ্বল করছে। এমনি দৃশ্য চোখে পড়ে ডোমার উপজেলার সিমান্তবর্তী এলাকা ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের নিজ ভোগডাবুড়ী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে।

ওই গ্রাম বর্তমানে পাখিলাগা গ্রাম নামে পরিচিতি পেয়েছে। এখানে প্রতিদিনই পাখি দেখতে ভিড় করেন বিভিন্ন এলাকার পাখি প্রেমীরা। পাখি গুলো প্রতিবছর ফাল্গুন মাসে আসে এবং আশ্বিনের শেষের দিকে চলে যায়। এই গ্রামে একটি কড়ই গাছের পাশাপাশি প্রায় তিন একর জমির উপর বিশাল বাঁশঝাড়ে গড়ে উঠেছে পাখির নিরাপদ অভয়ারণ্য। পাখি গুলো প্রায় ২০০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছে। রাতে পাখি গুলো বাঁশ ঝাড়ে থাকে ভোর হলেই কিচির মিচির শব্দ করে উড়ে যায় খাবাবের সন্ধানে। প্রতিদিন সকালে এসব পাখির কলকাকলিতে গ্রামের মানুষের ঘুম ভাঙ্গে।

রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী অন্তরা আক্তার বলেন, এমন সুন্দর দৃশ্য বর্তমানে দেখতে পাওয়া বড়ই কঠিন। সকাল সন্ধায় হাজারও পাখির কলতানের শব্দ অন্যরকম এক আবহ তৈরী করে। আর তা খুবই আনন্দদায়ক ও মনোমুগ্ধকর। পাখি আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই পাখিদের প্রতি সবাইকে সহনশীল হতে হবে। পাশাপাশি পাখি গুলোর নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে।

পাখি প্রেমী ওই বাশঁঝাড়ের মালিক মজিদুল ইসলাম (শেখ সাহেব) বলেন, পাখিদের আবাস এবং খাওয়া গোসলের অসুবিধার কারনে পাখি গুলোকে আর ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছেনা। তাই পাখির নিরাপদ অভায়ারণ্য, খাওয়া ও গোসলেন জন্য পুকুর খনন করা দরকার। পাখি যাতে নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারে সেজন্য  গাছের চারা লাগানো প্রয়োজন। রাতে শিকারীরা যেন পাখি শিকার করতে না পারে তার ব্যবস্থা করা হলে এই পাখি গুলো নিরাপদ আশ্রয় পাবে।

তার বসতভিটার উপরে বাশঁবাগানে বিভিন্ন ধরনের পাখির আবাসস্থান হিসেবে প্রায় ২০০বছর ধরে নিরাপদে বসবাস করছে। কিছু মানুষ ফাঁদ বসিয়ে পাখি গুলো শিকার করছেন। পাখি গুলো শিকার না করার জন্য বলা হলেও তারা কোন কথা শুনেছেন না। এ ব্যাপরে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

ডোমার উপজেলা রেঞ্চ অফিসার মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ওই এলাকায় পাখির আবাসস্থল গড়ে উঠেছে প্রাকৃতিক ভাবেই। বন বিভাগের পক্ষ থেকে পাখিদের অভায়াশ্রম নিরাপত্তায় সব সময় খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। তবে পাখিগুলো রক্ষার্থে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। পাখি গুলোকে ফাঁদ বা অন্য কিছু দ্বারা শিকার করতে না পারে এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেছি। দীর্ঘদিন থেকেই পাখিরা এখানে বসবাস করছে। আমাদের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা করা হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়