নাটোরে উপজেলা চেয়ারম্যানের মারপিটে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মারা গেছে

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২, ০৭:০৯ বিকাল
আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২, ১১:৩০ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

নাটোর প্রতিনিধি: অবশেষে মারা গেল নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদের হাতে মারপিটের শিকার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জামিউল আলীম জীবন (২২)। চারদিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকার পর আজ শুক্রবার বেলা ১টা ২০ মিনিটে সে মারা যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী। নিহত জামিউল ইসলাম জীবন ফরহাদ হোসেনের ছেলে এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দেয়াকে কেন্দ্র করে গত সোমবার সন্ধ্যায় নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার আমতলী বাজারে জীবন ও তার পিতা ফরহাদ হোসেনকে ডেকে নেন উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান আসাদ ও তার সহযোগীরা পিতা-পুত্রকে মারপিট করে। আহত অবস্থায় তাদের প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওই রাতেই তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে জীবনের অবস্থার অবনতি হলে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকার পর শুক্রবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের চাচা নলডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম ফিরোজ বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেলা ২টার দিকে লাশ ও তার সমস্ত কাগজ-পত্র বুঝে দেন। এই ঘটনার সুষ্ঠু প্রতিকার এবং যারা জনসম্মুখে তার ভাতিজাকে পিটিয়ে মেরেছে তারা যেন পার না পায় সে দাবি করেন তিনি।

রামেক হাসপাতালের আইসিইউ’র প্রধান আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরদিন বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে জীবনের মাথা খুলিতে অপারেশন করার জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে আবারও আইসিইউ’র ভেন্টিলেশনে চিকিৎসা দেয়া হয়। তার অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরে আর অপারেশন করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে নিহতের চাচা এসএম ফখরুদ্দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজ প্রোফাইলে জামিউলের ছবি শেয়ার করে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ক্যাপসানে লিখেছেন, ‘আমার জীবন আর আমাদের মাঝে নেই। (২১ সেপ্টেম্বর) বুধবার দুপুরে তার মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন তিনি। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এতদিন আমাদের  তারা মৃত্যু নিশ্চিতের বিষয়টি নিয়ে নাটক করছেন।

এব্যপারে নলডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, এঘটনায় গত মঙ্গলবার ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী জাহানারা বেগম বাদি হয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ, তার বড় ভাই ফয়সাল শাহ ফটিক ও অপর ভাই আলিম আল রাজি শাহ’র নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫ জনের বিরুদ্ধে নলডাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আলিম আল রাজি শাহকে মঙ্গলবার রাতে নলডাঙ্গা বাজার গ্রেফতার করা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদসহ অন্যরা পলাতক রয়েছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়