একই গাড়ি বার বার বেচে কোটি কোটি টাকার মালিক ইউপি চেয়ারম্যান

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২, ০৩:৩৬ দুপুর
আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২, ০৩:৩৬ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

বন্দর থেকে স্বল্পমূল্যে গাড়ি কিনে দেওয়ার আশ্বাসে বিভিন্নজনের কাছ অর্থ নিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। টাকা নিয়ে একই রেজিস্ট্রেশন নাম্বারের গাড়ি জাল দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করতেন বার বার।

আবার সেসব গাড়ি রেন্ট এ কারের মাধ্যমে মাসিক ভাড়ায় দিতে করতেন আলাদা চুক্তি।এর বাইরে বিভিন্নজনের কাছ থেকে পুরো টাকা নিয়ে কখনো কখনো গাড়ি কিনতেন ডাউন পেমেন্টে, আবার কাস্টমারকে না জানিয়েই নিতেন ব্যাংক লোন।

অভিনব এ পন্থায় অন্তত ৩০০ জনের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মূলহোতা জাকির হোসন (৪৩) নামে এই জনপ্রতিনিধিকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার মেঘনা থানা এলাকা থেকে জাকিরকে গ্রেফতার করে ডিবি তেজগাঁও বিভাগ। এ সময় তার কাছ থেকে ২ মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতার জাকির হোসেন কুমিল্লা জেলার মেঘনা থানাধীন ২নং মানিকাচর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান।

শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর ডিএমপির মুগদা থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়। পরে ডিবি তেজগাঁও বিভাগের তেজগাঁও জোনাল টিম মামলাটির ছায়া-তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে জানা যায়, জাকির চেয়ারম্যান বন্দর থেকে স্বল্প দামে গাড়ি কিনে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে টাকা নেয়।

এছাড়া, বন্দর থেকে কেনা গাড়ি রেন্ট-এ কারের মাধ্যমে মাসিক ভাড়ায় পরিচালনা করার জন্যও  চুক্তি করে।

একই রেজিস্ট্রেশন নাম্বার সম্বলিত গাড়ি একাধিক জাল দলিলের মাধ্যমে বিক্রয় করতেন জাকির। আসলে একই গাড়ি একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে ভুয়া কাগজপত্রে চুক্তি করে রেন্ট-এ কারে গাড়ি দেওয়ার কথা বলতেন তিনি।

আবার কোনো ক্রেতাকে শুধু ইঞ্জিন নাম্বার দিয়ে মাসিক কিস্তি পরিশোধের ভিত্তিতে কিছুদিন পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধ করতেন। পরবর্তীতে কিস্তি দেওয়া বন্ধ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করতেন জাকির। পূর্বের বিক্রি করা গাড়ি স্বল্প মূল্যে মালিকানা হস্তান্তরের লোভ দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে হাতিয়েছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ।

গ্রেফতার জাকিরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ডিবি প্রধান বলেন, জাকির চেয়ারম্যান কখনো ভিকটিমদের কাছ থেকে পুরো টাকা নিয়ে গাড়ি কিনতেন ডাউন পেমেন্টে। আবার ব্যাংক থেকে গাড়ির বিপরীতে কাস্টমারকে না জানিয়ে নিতেন ব্যাংক লোন।

তিনি আরো বলেন, চেয়ারম্যান জাকির কয়েকজন এমপি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন গাড়ি কিনে দেওয়ার কথা বলে। তাদের সঙ্গে রেন্ট-এ কারে চুক্তিও করেন তিনি। সেই অনুযায়ী প্রতিমাসে ঠিকই টাকা দিয়েছেন। এতে করে তাকে বিশ্বাস করেছেন সবাই।  

এই বিশ্বাসযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে জাকির প্রায় ৩০০ লোককে প্রতারিত করে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়