পানি প্রবাহ বন্ধ রেখে কালভার্ট নির্মাণ, ৩০ একর জমির আমনের চারা ডুবে গেছে

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২, ০৬:৫১ বিকাল
আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২, ০৬:৫১ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সড়কে কালভার্ট নির্মাণ করতে পানি প্রবাহ বন্ধ রাখায় এলাকার শতাধিক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর ফলে একরের পর একর আমনের চারা পানির নিচে ডুবে আছে। এমন অভিযোগ উঠেছে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

তদস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ১২ মিটার দৈর্ঘ্যরে একটি কালভার্ট তৈরি করতে ঠিকাদার পুরো বছরজুড়ে কাজ করছে। পাশাপাশি স্থানীয় ধলা বিল ও কৃষ্ণা বিলের পানি প্রবাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করে যানবাহন যাতায়াতের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এন এন্টারপ্রাইজ একটি অস্থায়ী বাইপাস সড়ক নির্মাণ করে। এতে এক সপ্তাহ ধরে পাশের দুইটি বিলের প্রায় ৩০ একর জমির আমন চারা পানিতে ডুবে আছে।

বশর উদ্দিন নামের এক কৃষক অভিযোগ করেন- ২৫ দিন আগে ধলা বিলে প্রায় এক একর জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করি। জমে থাকা পানিতে আমনের চারা ডুবে আছে। বিষয়টি সুরাহার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে পানি যাওয়ার জন্য একটি পাইপ দেওয়া হয়েছে। তবে বিলে যে পরিমাণ পানি আছে তা নিষ্কাশনের জন্য এটুকু পাইপ দিয়ে হবে না। আর দুদিন গেলে একটি জমিতেও ধানের চারা আর অবশিষ্ট থাকবে না।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক সরোয়ারদি নিজামী নওফেল বলেন, আমরা বাইপাস সড়কে কয়েকটি পাইপ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছি। তবে ওই বিলগুলোতে পাহাড়ি ঢলের পানি থাকায় কৃষকদের এমন সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এটি অবশ্যই দুঃখজনক। আমিও এ ব্রিজের কাজ করে লোকসানে পড়তে হবে। কালভার্টের কাজ এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিনহাজুর রহমান বলেন, আমরা এ ঘটনায় চতুরমুখী সংকটে পড়েছি। যে সড়কে কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়কের পূর্ব দিকে সরকারি খাদ্য গুদাম। বর্তমানে সাধারণ মানুষের কাছে খাদ্য সরবরাহের জন্য টিসিবি, ওএমএসসহ বেশ কটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি চলছে। কৃষককে বাঁচাতে পানি প্রবাহ বাড়াতে আমরা বাইপাস সড়কের একটি অংশ কেটে দিতে পারতাম। কিন্তু তা কাটা যাচ্ছে না। কারণ এতে পুরো উপজেলায় সরকারি খাদ্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। তবে মিরসরাই উপজেলা প্রকৌশলী রণি সাহা জানান, ভরা বর্ষায় ঠিকাদার কাজ করতে পারেনি। এখন কাজ করছে। কৃষকদের সাময়িক সমস্যা হয়েছে। তবে আমরা পানি প্রবাহের জন্য পাইপ দিয়ে ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আগামী দু’একদিনের মধ্যে পানি নেমে যাবে। 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়