চেয়ারম্যানের দিকে পিস্তল তাক করলেন এমপি

শাজাহানপুরে এমপি বাবলু লাঞ্ছিত

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২, ০৯:৪৪ রাত
আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২, ০৯:৪৪ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভায় যোগ দিতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর-গাবতলী) এলাকার সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাবলু। এ সময় এমপি’র ব্যক্তিগত সহকারি (পিএ) রেজাউল করিম (৩৫) আহত হয়েছেন। ঘটনার একপর্যায়ে শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যানের দিকে পিস্তল তাক করেন এমপি বাবলু। ঘটনাটি ঘটেছে আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনের দ্বিতীয় তলায়। সংবাদ পেয়ে শাজাহানপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এমপি বাবলুকে হেফাজতে নিয়ে পুলিশী প্রহরায় বাড়িতে পৌঁছে দেন এবং আহত পিএ রেজাউল করিমকে হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু জানিয়েছেন, শাজাহানপুর উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভায় যোগ দিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে গতকাল মঙ্গলবার তাকে চিঠি দেওয়া হয়। সেই মোতাবেক তিনি আজ বুধবার সকাল পৌণে ১০টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে সাক্ষাত করতে তার অফিস কক্ষের সামনের বারান্দায় অপেক্ষা করছিলেন। কিছুক্ষণ পর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) বাদশা আলমগীর কয়েকজন সহযোগীকে সাথে নিয়ে সেখানে হাজির হন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। নিষেধ করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে এমপি’র পিএ রেজাউল করিমকে মারপিট শুরু করেন। মারপিটে রেজার মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়। এমপি রেজাউল করিম বাবলু আরও বলেন, বাহিরে হৈচৈ শুনে আইন-শৃংখলা মিটিং থেকে বেড়িয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রভাষক সোহরাব হোসেন ছান্নু। তিনি এমপি’কে ধাক্কা দিয়ে বারান্দায় ফেলে দিলে আত্মরক্ষার্থে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যানের দিকে পিস্তল তাক করে ধরেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, সেখানে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলেই বোঝা যাবে, সেখানে কে কী করেছে।

উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) বাদশা আলমগীর জানিয়েছেন, এমপি বাবলু’র নামে বিভিন্ন সময় মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা, রাস্তা ইত্যাদি উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ আসে। উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়ার নামে অনেকের কাছে থেকে টাকা নিয়েছেন এমপি বাবলু। এমপি তার কাছ থেকেও ৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নেন। এরমধ্যে ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও বাকি ৯৫ হাজার টাকা আজও পরিশোধ করেননি এমপি রেজাউল করিম বাবলু। এর আগেও টাকা ফেরতের বিষয়ে এমপি’র সাথে কথা হয়েছে। তিনি টাকা ফেরত দিবেন বলে তালবাহানা করেন। আজ উপজেলায় দেখা পেয়ে তার কাছে পাওনা টাকা দাবি করেন। টাকা দাবি করা মাত্রই এমপি বাবলু তার ওপর উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং ধাক্কা দেন। ফারুক নামের এমপি’র এক সঙ্গী তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। হট্টগোল শুনে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ছান্নু বের হয়ে সবাইকে শান্ত হতে বলেন। কিন্তু কোন কথা না বলে এমপি পিস্তল বের করে উপজেলা চেয়ারম্যানের দিকে তাক করেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান প্রভাষক সোহরাব হোসেন ছান্নু বলেছেন, এমপি এর আগে কখনও উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আসেননি। আজ কি মনে করে এসেছেন তা বোধগম্য নয়। হট্টগোল শুনে তিনি আইন-শৃংখলা কমিটির সভা থেকে বেরিয়ে এসে সকলকে শান্ত হতে বলেন। কিন্ত তাতে কর্ণপাত না করে এমপি হঠাৎ তার দিকে পিস্তল তাক করেন।

শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ্ আল মামুন জানিয়েছেন, উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা চলছিল। এ সময় এমপি’র সঙ্গে বাইরে ঝামেলা হচ্ছে সংবাদ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছেন এবং পুলিশী প্রহরায় এমপিকে বাড়ি পৌঁছে দেন। এ সময় এমপি’র ব্যক্তিগত সহকারিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করেন। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে উপজেলা চেয়ারম্যানের দিকে পিস্তল উঁচিয়ে ধরার প্রতিবাদে দুপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শাজাহানপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়