শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দমাতে পারেনি সালমাকে

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২, ০৮:৩৫ রাত
আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২, ০৮:৩৫ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি: শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দমাতে পারেনি নাটোরের গুরুদাসপুরের দাখিল পরীক্ষার্থী সালমা খাতুনকে (১৯)। সব বাধা পেরিয়ে ভবিষ্যতে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। সালমা উপজেলার ঝাউপাড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে এ বছর মশিন্দা আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন। তিনি উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ঝাউপাড়া গ্রামের ইব্রাহীম হোসেনের মেয়ে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সালমার বাবা পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক। হতদরিদ্র পরিবারে প্রতিবন্ধী হয়েই জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের পর থেকেই সালমার দুই পায়ে সমস্যা। লাঠি ছাড়া হাঁটতে পারেন না। দুইটি লাঠির ওপর নির্ভর করেই চলাফেরা করতে হয় তাকে। ২০০৫ সালে সালমার মা মৃত্যুবরণ করেন। তার কিছুদিন পরে বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেই ঘরে সালমার আরো দুই বোন ও এক ভাই রয়েছে। অনেক ঘাত প্রতিঘাত পারি দিয়েই সালমা এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। পরীক্ষার দিন সহপাঠিদের সাথে ওয়াকিং স্টিক অর্থাৎ ক্রাচের সহযোগিতায় কেন্দ্রে যান পরীক্ষা দিতে। অনেক সময় একা একা হাঁটতে পারেন না সালমা। পরিবার কিংবা সহপাঠিদের সহযোগিতা নিতে হয় তাকে।

সালমা জানান, জন্মের পর থেকেই আমি শারিরীক প্রতিবন্ধী। বাবা পল্লী চিকিৎসক। যে টাকা আয় করে তার বেশিরভাগ আমার চিকিৎসার জন্য খরচ করেছে। তারপরও আমি সুস্থ হতে পারিনি। দুই বছর বয়সে আমার মা মারা যায়। জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই আমি কষ্ট করে হলেও মাদ্রাসায় গিয়েছি। আমার স্বপ্ন আমি একদিন শিক্ষক হবো। কারণ, একজন শিক্ষক পারে একজন শিক্ষার্থীকে তার নিজের মত করে গড়ে তুলতে।

ঝাউপাড়া মাদ্রাসার সুপার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল গনি মিয়া বলেন, সালমা অনেক মেধাবী ছাত্রী। আমরা মাদ্রাসার পক্ষ থেকে তাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করি। আমরা চাই সালমার স্বপ্ন পূরণ হোক। সালমার বাবা ইব্রাহীম হোসেন জানান, যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলে না। তারপরও নিজের সাধ্য অনুযায়ী মেয়েকে সুস্থ করার জন্য সকল ধরনের চিকিৎসা করিয়েছি। এখন আমার কাছে চিকিৎসা বা পড়াশোনা করানোর মত টাকা নেই। আমি সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই আমার মেয়ের জন্য।

এ বিষয়ে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তমাল হোসেন জানান, খোঁজ নিয়ে সালমাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়