নওগাঁয় চেয়ারম্যান হয়েও স্কুলে শিক্ষকতা!

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২, ০১:৫৩ দুপুর
আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২, ০১:৫৩ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

করতোয়া ডেস্ক : নওগাঁর রানীনগরে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ও বিধি লঙ্ঘন করে ইউপি চেয়ারম্যান হয়েও একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল মতিন মাস্টারের বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার বড়গাছা ইউপি চেয়ারম্যান এবং ওই এলাকার মালসন-গিরিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে আইসিটির শিক্ষক হিসেবে একইসঙ্গে দুই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আব্দুল মতিন মাস্টার স্কুলে গেলে জনগণ পরিষদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে পরিষদে থাকলে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী একই ব্যক্তি একাধিক লাভজনক পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না- এমন অভিযোগ উত্থাপন করে ওই এলাকার বাসিন্দা মহসিন মল্লিক নামে এক ব্যক্তি সম্প্রতি ইউপি চেয়ারম্যান ও শিক্ষক আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে নওগাঁ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার বড়গাছা গ্রামের ফরিদ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মতিন মালসন-গিরিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে আইসিটি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এরই মধ্যে আব্দুল মতিন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে গত বছরের ১১ নভেম্বর বড়গাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে নির্বাচিত হন। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী একই ব্যক্তি একাধিক পদে থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না এমন বিধি লঙ্ঘন করে তিনি একইসঙ্গে শিক্ষকতা এবং চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২টি প্রতিষ্ঠানে একই সময়ে অফিস হওয়ায় কোনো প্রতিষ্ঠানেই তিনি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আইসিটি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই বিধি বহির্ভূতভাবে ২টি পদে দায়িত্বে থাকায় তদন্তসাপেক্ষে আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ২১ আগস্ট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি সরেজমিন তদন্তও করেছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

অভিযোগকারী মহসিন মল্লিক বলেন, একজন ব্যক্তি একইসঙ্গে কখনই ২টি পদে থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। এতে একদিকে যেমন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষকতার চাকরি বহাল রাখতে গিয়ে পরিষদের জনগণকেও ভালো সেবা দিতে পারছেন না। ফলে দুই প্রতিষ্ঠানই দিন দিন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেই কারণেই এলাকার একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এর প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলার বড়গাছা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মাস্টার বলেন, আইন ও বিধি মেনেই দায়িত্ব পালন করছি। সমাজে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। 

এ ব্যাপারে নওগাঁ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, অভিযোগের তদন্ত এখনো সম্পন্ন হয়নি। আরও কিছু কাজ বাকি আছে। তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরেই সব বলা যাবে এবং প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়