পবায় শিক্ষিকাকে কান ধরে ওঠবসের ঘটনায় দুজনকে বদলির সুপারিশ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২, ০১:৪১ দুপুর
আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২, ০১:৪১ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

করতোয়া ডেস্ক : রাজশাহীর পবা উপজেলার হাড়ুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার নির্দেশে এক সহকারি শিক্ষিকাকে কান ধরিয়ে ওঠবস করানোর অভিযোগের তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। এ ঘটনায় দুই শিক্ষিকাকেই বদলির সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে জমা দিয়েছে রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

গত ২৪ আগস্ট হাড়ুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাজমা ফেরদৌসীর বিরুদ্ধে তার স্কুলের এক সহকারি শিক্ষিকাকে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ ওঠে। স্কুলের জমিদাতা আবদুল আজিজসহ সব শিক্ষকের সামনে হেনস্তার অভিযোগ তুলে ওই ভুক্তভোগী শিক্ষিকা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

এরপরই ভুক্তভোগী শিক্ষিকার কান ধরে ওঠবস করার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশ পেলে দেশব্যাপি তোলপাড় শুরু হয়।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকার অভিযোগ পেয়ে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে দুই শিক্ষিকাকে বদলির সুপারিশ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে পাঠানো হয়।

বিষয়টির নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইদুল ইসলাম। তিনি জানান, সহকারি ওই শিক্ষিকাকে কান ধরে ওঠবস করানোর সত্যতা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষিকার ছবি দিয়ে টিকটক বানানোর বিষয়টিও কয়েকজন শিক্ষক দেখেছেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। তবে কেউই আলামত সংরক্ষণ করেননি। তাই ২টি অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২ জনকেই পৃথক দুটি স্কুলে বদলির সুপারিশ করা হয়েছে। এখন বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিবেচনাধীন।

এদিকে বিচারের দীর্ঘসূত্রিতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা। তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষিকা আমার সঙ্গে অন্যায় করেছেন। বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেও এখনো কিছুই হয়নি। প্রধান শিক্ষিকা এখনো বিভিন্নভাবে আমাকেসহ আরও কয়েকজন শিক্ষিকাকে চাপের মুখে রেখেছেন। অভিভাবকদের সামনে বিভিন্নভাবে অপমান করছেন। আমি মানসিকভাবে বিষয়টি আর মেনে নিতে পারছি না। আমি দ্রুত বিষয়টির সমাধান চাইছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষিকা নাজমা ফেরদৌসী বলেন, আমার ছবি ব্যবহার করে অশালীন ও নোংরা টিকটক বানানো হয়েছে। এটি সবাই জানেন। এ কারণে ওই শিক্ষিকাকে সতর্ক করা হয়। তবে কান ধরে ওঠবস করার বিষয়টি সঠিক না বলে দাবি করেন তিনি। তবে তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে কিছু বলতে চাননি প্রধান শিক্ষিকা নাজমা ফেরদৌসি।

উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট হাড়ুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাজমা ফেরদৌসী ও তার স্বামীর নেতৃত্বে ওই সহকারি শিক্ষিকাকে কান ধরে ওঠবস করানো হয়। ওই দিনই এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়