মান্ধাতা আমলের পদ্ধতিতেই টিকিট বিক্রি হচ্ছে পাঁচবিবি রেল স্টেশনে 

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২, ১১:৪০ দুপুর
আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২, ১১:৪০ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

বাগজানা (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : ব্রিটিশ আমলে নির্মিতি উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জয়পুরহাটের পাঁচবিবি রেলওয়ে স্টেশনে অনলাইনের মাধ্যমে ট্রেনের টিকিট বিক্রির কার্যক্রম চালু না হওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এই অঞ্চলের যাত্রী সাধারণের। তথ্যপ্রযুক্তিতে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্র এগিয়ে গেলেও পাঁচবিবি রেলওয়ে স্টেশনটিতে ডিজিটালের ছোঁয়া লাগেনি আজও। এ স্টেশন থেকে সরকার ভালো রাজস্ব পেলেও যাত্রীসেবার মান একদম নিচের ধাপে।

জানা গেছে, বৃটিশ আমলে নির্মিত পাঁচবিবি রেলওয়ে স্টেশনের ব্রডগেজ-মিটারগেজ ও ন্যারোগেজ রেললাইন দিয়ে প্রতিদিন আন্তনগর ট্রেন, মেইল, লোকাল ট্রেন ঢাকাসহ দেশের উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াত করে। প্রত্যেকটি ট্রেন মাত্র দুই-তিন মিনিটের ব্যবধানে প্লাটফর্ম ত্যাগ করে। স্টেশনটিতে যাত্রীদের বসার ভালো কোনো সুব্যবস্থাও নেই। এছাড়া স্টেশনটি নিচু হওয়ায় শিশু ও বয়স্ক মানুষ তাড়াহুড়ো করে ট্রেনে উঠতে বা নামতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হন। ট্রেনের চাইতে প্লাটফর্মের আকার অনেক ছোট হওয়ায় শেষের বগির জাত্রীগন ট্রেনে ওঠা-নামা করতে গিয়ে হোচট খেয়ে পড়ে গিয়ে অনেকে পা ভাঙা, গোড়ালি মচকে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপরদিকে স্টেশনের পাশে ময়লা আবর্জনার ড্রেনের পঁচা গন্ধে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কঠিন। যাত্রীদের বসার জায়গাটাও ভবঘুরের দখলে থাকে। 

এছাড়াও যাত্রীদের অভিযোগ আছে, অনলাইনে টিকিট বিক্রি চালু না হওয়ায় বেশি দামে টিকিট সংগ্রহ করাসহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আসন সংখ্যা সিমীত হওয়ায় অধিকাংশ সময়ে ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায় না। তাছাড়া মাঝে মধ্যেই একই সিটের দুইটি টিকিটও পাওয়া যায়। পাশের হিলি স্টেশনে সকল ট্রেনের স্টপেজ না থাকায় হিলির অনেক যাত্রীই পাঁচবিবিতে আসেন টিকিট কাটতে, কিন্তু এসে স্টেশন ডিজিটাল না হওয়ায় তারা টিকিট না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যান। এভাবেই প্রতিদিন হয়রানি হয় অনেক যাত্রী। অন্যদিকে অনলাইনের মাধ্যমে দূরবর্তী রেলস্টেশন থেকে বেশি টাকায় ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে হয় যাত্রীদের। যা প্রতিনিয়ত ট্রেনের যাত্রীদের ভোগান্তির শিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

রেলওয়ে স্টেশনে অপেক্ষামান এক যাত্রী বলেন, চাকরির সুবাদে পাঁচবিবি থেকে মাঝে মধ্যে কর্মস্থলে যেতে হয়। অধিকাংশ সময়ে স্টেশনে এসে টিকিট পাই না। বাধ্য হয়ে অনলাইনের মাধ্যমে আশপাশের দূরবর্তী কোন রেলস্টেশন থেকে বেশি দামে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। তাই আমাদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এখানেও অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বিক্রির কার্যক্রম চালু করা হোক।

আরেক যাত্রী বলেন, পড়াশোনার কাজে মাঝে মাঝে ঢাকায় যেতে হয়। নিরাপত্তা ও সাবধানে যাতায়াতের বাহন হিসেবে ট্রেনে যেতেই বেশি পছন্দ করি। কিন্তু পাঁচবিবি থেকে ট্রেনের আসন সংখ্যা কম থাকায় টিকিট আগাম বিক্রি হয়ে যায়। টিকিট পেতে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। তাই দ্রুত ট্রেনের আসন বৃদ্ধির পাশাপাশি অনলাইনে টিকিট বিক্রির কার্যক্রম চালুর দাবি জানাচ্ছি। 

পাঁচবিবি রেলওয়ে স্টেশনের দায়িত্বে থাকা স্টেশন মাস্টার মো. কামরুজ্জামান বলেন, অল্প দিনের মধ্যেই পাঁচবিবি রেলওয়ে স্টেশনটিও অনলাইনের আওতায় আসবে জানিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। তিনি আরো বলেন, পার্বতীপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী দ্রুতযান এক্সপ্রেস দিনে ও রাতে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বিরতী করে। এছাড়াও পার্বতীপুর থেকে রাজশাহীগামী বরেন্দ্র, তিতুমীর ও বাংলাবান্ধা ট্রেনেরও যাত্রা বিরতী হয়। 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়