বগুড়ায় জামাইকে ১৫ লাখ টাকা দিয়েও মেয়েকে বাঁচাতে পারলেন না এক বাবা

প্রকাশিত: আগস্ট ১৬, ২০২২, ০৯:১৫ রাত
আপডেট: আগস্ট ১৬, ২০২২, ০৯:১৫ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

স্টাফ রিপোর্টার: দোকান কর্মচারী বাবা শামসুল হক। মেয়ে শাম্মী আক্তারের শ্বশুর বাড়িতে সুখের জন্য  নিজের বাড়ি বন্ধক রেখে দফায় দফায় জামাইকে ১৫ লাখ টাকায় দিয়েও মেয়েকে বাঁচাতে পারলেন না। অর্থলোভী, পাষন্ড স্বামী টুটুলের নির্যাতনে মৃত্যু হলো শাম্মী আক্তারের। গতকাল সোমবার বিকালে বগুড়া শহরের নামাজগড় এলাকায় স্বামীর বাড়িতে তিনি মারা যান। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শজিমেক) মর্গে ময়না তদন্তশেষে তার মরদেহ বাবার বাড়ি শহরের কাটনাড়পাড়া এলাকায় আনা হলে সেখানে শোকের ছায়া নেমে আসে। এ দিকে, শাম্মী আক্তারের শ্বশুর বাড়ি থেকে শাম্মী আক্তার আত্নহত্যা করেছে বলে দাবী করা হয়েছে।

শাম্মী আক্তারের বাবা শামসুল হক অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। জামাই জেলহজ হোসেন টুটুল গত কয়েক মাস ধরে তার মেয়ের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। মেয়ের সুখের জন্য তিনি বাড়ি বন্ধক রেখে এবং এনজিও’র কাছ থেকে ঋণ নিয়ে কয়েক দফায় জামাইকে ১৫ লাখ টাকা দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও তার মেয়েকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

শাম্মী আক্তারের মা মুন্নি অভিযোগ করে বলেন, যৌতুকের কারনে বার বার তার মেয়েকে নির্যাতন করা হয়েছে। তার স্বামী টুটুল তাকে মানসিক  ও শারিরিক নির্যাতন করে হত্যা করেছে। তিনি এই হত্যাকান্ডের সুষ্ঠ বিচার চান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিবেশীরা শাম্মী আক্তারের শরীরের বিভিন্ন অংশে নির্যাতনের দাগ দেখেছেন বলে জানান। মেয়ের সুখের জন্য জামাইকে প্রচুর টাকা দিয়েছেন। কিন্তু প্রতিদানে তারা জামাইয়ের কাছ থেকে মেয়ের লাশ ফেরৎ পেলেন।

এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এস.আই আব্দুল মালেক জানান, পুলিশ শজিমেক হাসপাতাল থেকে মেয়েটির লাশ উদ্ধার করেছে। তার ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, তার মৃত্যু রহস্যজনক। এ ব্যাপারে থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বগুড়া সদর থানার ওসি মো: সেলিম রেজা জানান, ময়না তদন্তে রিপোর্ট হাতে এলে জানা যাবে শাম্মী আক্তারের মৃত্যু’র আসল কারণ। তবে তাকে হত্যার অভিযোগ কেউ থানায় মামলা দায়ের করেনি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়