সরকারের বেঁধে দেয়া দাম মানছে না কোম্পানীগুলো

কমানোর ঘোষণার পর এলপিজি আরও বেশিদামে বিক্রি হচ্ছে, ভোক্তারা অসহায়

প্রকাশিত: আগস্ট ০৮, ২০২২, ০৯:১২ রাত
আপডেট: আগস্ট ০৮, ২০২২, ০৯:১২ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

হাফিজা বিনা: বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এলপিজি’র দাম ১২ কেজির সিলিন্ডার প্রতি ৩৫ টাকা দাম কমিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তা হচ্ছে উল্টো। বরং সাধারণ ভোক্তা এই ঘোষণার আগে যে দামে গ্যাস কিনতেন এখন তার চেয়ে আরও প্রায় ১শ’ টাকারও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে সরকারি ওই ঘোষণা শুধু অসারই নয়, বরং এটাকে গ্যাস কেম্পানিগুলোর বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন বলেই মনে করছেন অসহায় সাধারণ মানুষ।

প্রকাশ থাকে তাই কমিশন ভোক্তা পর্যায়ে গত ২আগস্ট মাসে ৩৫ টাকা কমিয়ে মুসকসহ ১২ কেজির রান্না করার এলপিজির সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে ১২১৯ টাকা। কিন্তু জুলাই মাসে ছিল ১২৫৪ টাকা। কিন্তু মাসের শুরু থেকেই খুচরা দোকানীরা ১২ কেজির  সিলিন্ডারে দাম নিচ্ছেন ইচ্ছেমত। কেউ নিচ্ছেন ১২৬০ কেউ নিচ্ছেন ১৩৮০ টাকা। প্রতিটি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যখন সাধারণের বাইরে তখন অতি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ কিনতে বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে গ্রাহককে। দাম বাড়ার ব্যাপারে ডিলাররা ডিলাররা দুষছেন কোম্পানীকে, আর কোম্পানী সংশ্লিষ্টরা বিশ্ব বাজারের বর্তমান অবস্থাকে দায়ী করছেন। মাঝে গ্রাহক এবং ভোক্তা পর্যায়ে প্রায় প্রতিদিন  বচসা চলছে সকাল বিকেল।

গত বছরের ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মত দেশে এলপিজির দাম নির্ধারণের পর দেশিয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয় করে আগস্ট মাসের জন্য নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সে অনুযায়ী চলতি জুলাই মাসের জন্য দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির দাম ৩৫ টাকা কমিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন- বিইআরসি। নতুন দামে বেসরকারি পর্যায়ে এলপিজির দাম প্রতিকেজি ১০১টাকা ৬২ পয়সা ধরে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম মূসকসহ ১২১৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখনও বগুড়ার কোথাও বেঁধে দেওয়া দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে না। এলাকাভেদে বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানির ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১২ শ’ ৪০ থেকে ১৩৮০ টাকা পর্যন্ত। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা ডিলারদের কাছে থেকে এনে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করেন। তারা যদি কম দামে তাদের গ্যাস সরবরাহ না করে তবে তারা কীভাবে বিক্রি করবেন। অন্যদিকে ডিলাররা দুষছেন কোম্পানিগুলোকে। তারা জানায়, দাম না কমালে নির্ধারিত দামে তাদের পক্ষে বিক্রি করা সম্ভব নয়।

আজ সোমবার বগুড়ার জামিলনগর, সুত্রাপুর, কানছগাড়ী, মালতিনগর, বৌবাজার, জলেশ্বরীতলাসহ বিভিন্ন এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত রোববার পর্যন্ত তারা যমুনা, ওরিয়ন, বেক্সিমকো, বসুন্ধরা,  ওমেরা, টোটাল, বিএম’র ১২ কেজির সিলিন্ডার গ্যাস ডিলারদের কাছ থেকে কিনতে হয়েছে ১২৪০ থেকে ১২৮০ টাকায়। গ্রাহকদের কাছে পৌছানী পর্যন্ত তাদের বিক্রি করতে হচ্ছে বর্ধিত মূল্যে ।

সিলিন্ডার প্রতি দাম বাড়ার ব্যাপারে বগুড়ার তিনমাধা রেলগেটে অবস্থিত থ্রিজি এন্টাপ্রাইজের বিক্রয় প্রতিনিধি  খোরশেদ আলম জানান, দাম কমানোর বা বাড়ার ব্যাপারে খুচরা বিক্রেতা ও ডিলারদের করার কিছু থাকেনা। কোম্পানীগুলো তাদের ইচ্ছামত দাম নির্ধারণ করে গ্যাস ডিলারের মাধ্যমে  খুচরা  বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে। দুই তারিখ থেকে গত পরশু পর্যন্ত আগের দামেই গ্যাস বিক্রি করেছেন। কোম্পানী প্রতিটি গ্যাসের দাম না কমিয়ে বরং বাড়িয়েছে। তারা প্রতিটি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছে ৬০ টাকা।  তিনি বলেন  সবচেয়ে  বেশি দামে বিক্রি হয় বসুন্ধরা ও যমুনা গ্যাস। তারা কোম্পানী থেকে এই দুই গ্যাস কিনছেন ১২৪০ টাকা করে। সেই গ্যাস খুচরা বিক্রেতাদের কাছে দিচ্ছেন ১২৭০ থেকে ১২৮০ টাকা। এছাড়াও তারা বিক্রি করেন বিএম, ডেল্টা, পেট্রোম্যাক্স । এই গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করেন ১২৫০ টাকায়।

দাম বাড়ার ব্যাপারে বগুড়ার পুরানবগুড়ার এইচএইচ ইন্টারপ্রাইসের স্বত্ত্বাধিকারী মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, সরকারের সাথে কোম্পানীগুলোর সমন্বয়হীনতার জন্য গ্রাহক প্রর্যায়ে ডিলার, খচরা বিক্রেতা ও ভোক্তা এই তিন স্তরেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। সরকার দাম কমালেও ঠিক সেই সময় কোম্পানীগুলো প্রতিটি গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ৬০ টাকা। এমনিতে গোটা পৃথিবীর সাথে টালমাটাল অবস্থা চলছে পণ্য নিয়ে। এসব কারণে তিনি দাম বাড়ার এবং কমার পরও গ্যাস উত্তোলন করেননি কোম্পানী থেকে। আরও কয়েকদিন দেখে তবেই পণ্য তুলবেন।

বাংলাদেশ এলপি গ্যাস সোসাইটি বগুড়ার সভাপতি মঞ্জুরুল হক মঞ্জু বলেন, সারাদেশে এলপিজি গ্যাসের একই দাম নির্ধারিত নিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের বেধে দেয়া দাম মানছে না কোম্পানীগুলো। তারা তাদের ইচ্ছেমত  দাম বাড়াচ্ছে এবং বেশি দামে ডিলারদের কাছে বিক্রি করছে। বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে এমনিতেই প্রতিটি পণ্য সাধারণের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। সেখানে গ্যাস, কেরোসিন ও ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে মধ্যবিত্ব ও নিম্ন মধ্যবিত্ত্ব শ্রেণির জীবনের ছক বদলাতে হচ্ছে মুহূর্তে মুহূর্তে। তিনি আরও বলেন গ্রাহক পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে কিনা এবং কোম্পানীগুলোকে সরকারের আদেশ মানার ব্যাপারেও কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়