বগুড়ার ৮টি লায়ন্স ক্লাবের উদ্যোগে স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: আগস্ট ০৬, ২০২২, ১০:০৭ রাত
আপডেট: আগস্ট ০৬, ২০২২, ১০:৩৫ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ায় ৮টি লায়ন্স ক্লাবের আজ শনিবার দুপুরে আয়োজনে স্বাস্থ্য বিষয়ক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ সংলগ্ন লা-ভিলা হোটেলের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত ওই সেমিনারে ব্রেইন টিউমার ও ক্যানসার নিয়ে আলোচনা করেন ভারতের ব্যাঙ্গালোরের বিজিএস গ্লোবাল হাসপাতালের সিনিয়র সার্জিক্যাল অনকোলজি ডাঃ মনিকা প্যানসারি এবং সিনিয়র নিউরোলজিস্ট ডাঃ লাক্সম্যান আই কে।

সেমিনারে ডাঃ মনিকা প্যানসারি বলেন, ক্যানসার নিয়ে এখন ভীত হওয়ার কিছু নেই। ক্যানসার শরীরের যে কোন অংশেই হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার ধরা পড়লে সারানো সহজ। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই ক্যানসার অনেক দেরিতে ধরা পড়ে। তবে ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করে দ্রুত চিকিৎসা নিলে ক্যানসার থেকে আরোগ্য লাভ সম্ভব।

তিনি বলেন, ভারতে প্রতি বছর ১১.৬ লক্ষ মানুষ নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হন। তবে ক্যানসার মানেই ‘নো অ্যানসার’ এই ধারণাটা বদলে গিয়েছে। শুরুতে চিকিৎসা করলে ক্যানসার রুখে দিয়ে দীর্ঘজীবি হওয়া যায়। ধূমপানের নেশা ক্যানসারের অন্যতম কারণ। আবার অতিরক্ত ওজন, সারাদিন বসে বসে কাজ করা, কৃত্রিম রাসায়নিক ও রং মেশানো জাংক ফুড ক্যানসার ডেকে আনতে পারে। শুরুতে অসুখটি ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসার সাহায্যে অসুখের বিস্তার আটকে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা যায়। অত্যাধুনিক চিকিৎসায় এই কঠিন অসুখ আটকে দেওয়া যায়। সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিয়োথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপিসহ নতুন নতুন ওষুধ ও চিকিৎসা পদ্ধতির সাহায্যে ক্যানসার থেকে মুক্তি সম্ভব। তবে কিছু কিছু উপসর্গ দেখলে কোনও রকম গড়িমসি না করে ডাক্তার দেখান উচিত।

ডাঃ মনিকা প্যানসারি বলেন, ক্যানসারের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে শরীরের কোনও অংশে ব্যাথাহীন টিউমার, মুখে, মাড়িতে ঘা, সেটি কোনও চিকিৎসাতেই কমছে না, মলত্যাগের সময় ও অভ্যাস হঠাৎ করে বদলে গেলে, ডায়েটিং বা এক্সারসাইজ না করে কোনও কারণ ছাড়াই ওজন কমে যেতে শুরু করল, অরুচি, খিদে কমে যাওয়া, বমি বমি ভাব, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কালসিটে দাগ অথচ কোনও ব্যথা নেই, মাথা ঝিম ঝিম, মাথা ঘোরা ও সামগ্রিকভাবে দূর্বল লাগা, মাড়ি,  প্রস্রাব বা মলের সঙ্গে রক্তপাত, শরীরের অন্যান্য অংশ থেকেও রক্তপাত, স্তনবৃন্ত থেকে নিঃসরণ, রক্তপাত, কাশির সঙ্গে বা নাক দিয়ে রক্তপাত, ত্বকের কোনও তিল বা আঁচিলের আকার বা রং বদলে যাওয়া, মেনোপজের পর আচমকা ব্লিডিং শুরু হওয়া, গলার স্বর ভেঙ্গে যাওয়া এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসা করেও ঠিক না হওয়া।

তিনি বলেন, বর্তমানে দুটি ক্যানসার বেশি হয়। মেয়েদের ব্রেস্ট ক্যানসার ও লাং (ফুসফুসের) ক্যানসার। ৩০ বা ৪০ বছর বয়সের পর থেকে প্রত্যেক নারীর বছরে অন্ততঃ একবার ম্যামোগ্রাম (স্তনের পরীক্ষা) করা উচিৎ। স্তনের আকার বা রং পরিবর্তন হলে বা স্তনে কোন প্রকাশ ফুলে যাওয়া বা গোটার মত দেখলেই ম্যামোগ্রাম করা উচিৎ। আগে স্তন ক্যানসার হলে স্তন কেটে ফেলে দেওয়া হত, কিন্তু এখন চিকিৎসা উন্নত হওয়ায় স্তন কেটে ফেলা দেওয়া হয় না, স্তন রেখেই ক্যানসারের চিকিৎসা করা হয় বলে ডাঃ মনিকা প্যানসারি বলেন। এর পরেই রয়েছে ফুসফুসের ক্যানসার। এরজন্য দায়ী অতিমাত্রায় ধুমপান, এ্যালকোহল পান এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন জানিয়ে তিনি বলেন, জীবনযাপনের পরিবর্তন, ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে ক্যানসার প্রতিরোধ সম্ভব।

ব্রেইন টিউমার সম্পর্কে ডাঃ লাক্সম্যান আই কে বলেন,  মস্তিষ্কের কোষগুলির অস্বাভাবিকে বৃদ্ধিই ব্রেইন টিউমার। সাধারণতঃ ২০জনের মধ্যে একজনের ব্রেইন টিউমার হয় জিনগত কারণে। ১৩০টি ভিন্ন ধরনের প্রাইমারী ব্রেইন ও মেরুদন্ডের টিউমার হয়ে থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মাত্র ২ ভাগ মানুষ ব্রেইন টিউমার থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত হোন। তবে অন্যান্য ক্যান্সারের রোগীর চেয়ে ব্রেইন টিউমার থেকে যে ক্যান্সার হয় সে রোগীরা অনেক কম দিন বাঁচে।

ডাঃ লাক্সম্যান আই কে বলেন, ব্রেইন টিউমারের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মাথাধরা, খিঁচুনি, স্মৃতিভ্রম, অবসাদ, মেজাজের খামখেয়ালিপনা, বমি বমি ভাব, ক্লান্তি। এসব লক্ষণ দেখা দিলে ডায়াগোনস্টিকের মাধ্যমে আগে নিশ্চিত হতে হবে ব্রেইন টিউমার কী না। নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা করতে হবে। ব্রেইন টিউমারের চিকিৎসা সাধারণতঃ কয়েক ধরণের হয়ে থাকে। এরমধ্যে রয়েছে- অস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন, রেডিওসার্জারী, কেমোথেরাপি এবং ড্রাগ থেরাপি।

পিডিজি লায়ন মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে ওই সেমিনারে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রিজিওন চেয়ারপার্সন (হেড কোয়ার্টার) লায়ন একরামূল কবির সন্টু, সাবেক সংসদ সদস্য ডাঃ জিয়াউল হক মোল্লা, ব্যাঙ্গালোরের বিজিএস গ্লোবাল হাসপাতালের কর্মকর্তা জোস্রা ঠাকুর, প্রিয়া রাজেন্দ্রা। আলোচনায় অংশ নেন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের কার্ডিওলোজিস্ট ডাঃ শহীদুল হক। অতিথিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান লায়ন শাহিনুর ফেরদৌস, চন্দ্রিকা কাদীর, জিনিয়া নাজনীন, সাবিনা ফেরদৌস, ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম। লায়ন আব্দুল মোবিন জিন্নাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরান তেলোয়াত করেন বায়তুন রহমান মসজিদের ইমাম আবু আসলাম এবং গীতা পাঠ করেন আনন্দ মোহন পাল।

উল্লেখ্য সেমিনারটির আয়োজনকারী লায়ন্স ক্লাবগুলোর মধ্যে রয়েছে লায়ন্স ক্লাব অব বগুড়া, লায়ন্স ক্লাব অব বগুড়া করতোয়া, লায়ন্স ক্লাব অব বগুড়া আইডিয়াল, লায়ন্স ক্লাব অব বগুড়া সিটি, লায়ন্স ক্লাব অব সাফা, লায়ন্স ক্লাব অব বগুড়া তন্ময়, লায়ন্স ক্লাব অব বগুড়া মহাস্থান এবং লায়ন্স ক্লাব অব বগুড়া সংশপ্তক।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়