পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর নির্মাণ কাজ, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

প্রকাশিত: আগস্ট ০৬, ২০২২, ০৯:৪৬ রাত
আপডেট: আগস্ট ০৬, ২০২২, ০৯:৪৬ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে কাঁকড়া নদীর ওপর নির্মিত ১৭৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুর নির্মাণ কাজ পাঁচ বছরেও সম্পন্ন হয়নি। নানান অজুহাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে রাখায় উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ওইপথ দিয়ে যাতায়াতকারী লোকজনের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে উপজেলার দক্ষিণ দিকের মানুষ ভিয়াইল ও পুনট্টি ইউনিয়নের সংযোগস্থল আত্রাই নদীতে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে। এর প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে ১৭৫ মিটার আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। মের্সাস সুরমা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্রিজ নির্মাণের কাজটি পেয়েছে। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে কাজটি সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও তা অদ্যাবধি সম্পন্ন হয়নি।

এলাকাবাসী জানান, উপজেলা সদরে যাতায়াতে এ নদীই প্রধান অন্তরায়। এছাড়া ভিয়াইল ও পুনট্টি ইউনিয়নের মানুষের প্রয়োজনীয় কাজ, কষিপণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে এ নদী দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। এখানে নদীতে বছরের অন্তত ৮ মাস পানি থাকে। এ কারণে বর্ষায় নৌকা ও শুষ্ক মৌসুমে হেঁটে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় হাজার হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। 

এলাকার বিনু চন্দ্র জানান, নদীর ওইপাড়ে ইউনিয়ন পরিষদ। যেকোন কাজের জন্য আমাদেরকে নদী পার হয়ে ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয়। ঘাটে মাত্র একটি নৌকা থাকায় যেকোন গুরুত্বপূর্ণ কাজে সময়মতো সবাই একসাথে ইউনিয়ন পরিষদে যেতে পারি না। জবেদ আলী বলেন, সেতু নির্মাণে যেমন ঠিকাদারের গাফিলতি রয়েছে সেই সাথে সংশ্লিষ্টদের তদারকির অভাবের কারণে দীর্ঘ কয়েক বছর সময় অতিবাহিত হলেও সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। ওই গ্রামের হিরা বলেন, কাঁকড়া নদী পার হয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। এছাড়া যাতায়াতের যে বিকল্প রাস্তা রয়েছে সেটি অন্তত ৭ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। তাছাড়া এই সেতুটি হচ্ছে দুই ইউনিয়নের সংযোগস্থল। হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের সহজ মাধ্যম এই সেতুটি দ্রুত মানুষের চলাচলের জন্য দ্রুত উন্মুক্ত করা দরকার। ভিয়াইল গ্রামের রুবেল হোসেন বলেন, ঠিকাদারের গাফিলতিতে সেতুটির নির্মাণ কাজ অন্তত ৫ বছর পেরিয়ে গেছে। সেতুর নির্মাণ কাজ এত বিলম্ব হওয়ায় আমরা চিন্তিত। কবে নাগাদ সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে কেউ বলতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফারুক হাসান জানান, ঠিকাদারের বিভিন্ন অজুহাতে কাজ বন্ধ রাখায় সেতু নির্মাণ কাজে বিলম্ব হয়েছে। তাদের কয়েকবার চিঠি দিয়েও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। বর্ষা মৌসুমের পরেই তারা পুনরায় সারা না দিলে বাতিল আবেদন চেয়ে বাকি কাজ শুরু করা হবে। তবে সেতুটির পিলারসহ অন্যান্য কাজ মোটামুটি ৬০ ভাগ শেষ হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে এবং চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়