এস আই মাসুদ রানা ক্লোজড ও সোর্স আটক

বগুড়া শহরে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে জনরোষে সোর্সসহ পুলিশ কর্মকর্তা

প্রকাশিত: আগস্ট ০৫, ২০২২, ০৯:০৭ রাত
আপডেট: আগস্ট ০৫, ২০২২, ১০:১৯ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ায় চাঁদাবাজির ঘটনায় সদর থানার এস আই মাসুদ রানাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত এবং তার সোর্স ইকবালকে আটক করা হয়েছে। এর আগে তারা শহরের নাটাইপাড়ায় নাপিতপাড়ায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদাবাজি করতে গিয়ে জনরোষে পড়েন এবং বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: শরাফত ইসলামকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নাটাইপাড়ার কার্তিক চন্দ্র শীলের ছেলে তরুণ কুমার শীল অভিযোগ করেন, আজ শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে তিনজন অপরিচিত লোক তার বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তাদের মধ্যে একজন সদর থানার এস আই মাসুদ রানা এবং অপর দু’জন ইকবাল ও ইমরান পরিচয় দিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এ সময় তিনি তার নামে কোন মামলা বা ওয়ারেন্ট আছে কিনা জানতে চাইলে তারা তাদের মারধোর করে। তখন তার স্ত্রী ও মা এগিয়ে এলে তারা তাদের শ্লীলতাহানি ও মারধোর করে। তারা পকেট থেকে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বের করে তাকে ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া শুরু করে। সেই সাথে তারা তার বাসায় তল্লাশির নামে আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং বাসায় থাকা ৫০ হাজার টাকা নিয়ে সোর্স ইমরানের হাতে দিয়ে তাকে অনত্র পাঠিয়ে দেয়। এরপর এস আই মাসুদ রানা ও তার অপর সোর্স ইকবাল তার বাড়িতেই অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে তারা তাকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে বাড়ি হতে টেনে হেঁচড়ে বের করে আনার চেষ্টা করলে তার ছোট ভাই তাদের বাধা দেয়। তখন এস আই মাসুদ রানা তাকেও মারধোর করে এবং তার মোবাইল ফোন ভাংচুর করে। কিন্তু পরে বিষয়টি  জানতে পেরে  জনতা পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেয়। এরপর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স এসে এস আই মাসুদ রানা ও সোর্স ইকবালকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ দিকে স্থানিয় সূত্র জানায়, মোবাইল ফোনে অনলাইনে জুয়া খেলার অভিযোগে সাদা পোশাকে থাকা এস আই মাসুদ রানা ও তার দুই সোর্স ইকবাল ও ইমরান তরুন কুমার শীলের বাসার ভিতরে প্রবেশ করে এবং তরুণ শীলের মোবাইল ফোন জব্দ করে। এ সময় ওই বাসার ভিতর কয়েকজন যুবক মোবাইল ফোনে অনলাইনে জুয়া খেলছিল। তখন পুলিশের সোর্স ইকবাল তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। এক পর্যায় বাড়ির লোকজন পুলিশের উপস্থিতি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করলে এস আই মাসুদ রানা তাদেরকে মারপিট শুরু করে। পুলিশ বাড়ির নারীদেরকেও মারপিট শুরু করলে প্রতিবেশীরা এসে পুলিশ ও তার সোর্সকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানার অতিরিক্ত পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় লোকজন বিক্ষুদ্ধ হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দেয় এবং মিছিল করে। এ সময় পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাগন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে এস আই মাসুদ রানা ও সোর্স ইকবালকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম রেজা বলেন, এস আই মাসুদ রানা সেখানে অভিযানে যাওয়ার আগে তাকে এবং ডিউটি অফিসারকেও কিছুই জানায়নি। তারা অনলাইন জুয়ারুদের ধরতে সেখানে যায় বলে পরে জানা যায়। তিনি বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশে এস আই মাসুদ রানাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। মাসুদ রানার সোর্স ইকবালকে আটক করে থানা হাজতে রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: শরাফত ইসলাম জানান, অভিযানের আগে সাদা পোশাকে সেখানে অভিযানে যাওয়ার আগে এস আই মাসুদ তাকেও কিছু বলেননি। সেখানে অনলাইনে জুয়া খেলার সময় তাদের ধরতে মাসুদ রানা সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি বলেন এস আই মাসুদ রানাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড এবং ইকবালকে আটক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, এব্যাপারে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: শরাফত ইসলামকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। পুলিশ সুপার আরও বলেন, এস আই মাসুদ রানাকে প্রত্যাহার করে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং ইকবালকে আটক করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়