বাগজানা রেলস্টেশন চালু করার দাবি এলাকাবাসীর

প্রকাশিত: আগস্ট ০৫, ২০২২, ০৭:৫৮ বিকাল
আপডেট: আগস্ট ০৫, ২০২২, ০৭:৫৮ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

দুলাল অধিকারী জয়পুরহাট (বাগজানা) প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের পাঁচবিবি-হিলির মধ্যবর্তী বাগজানা বন্ধ রেলস্টেশনটি আবারও চালুর দাবি করেছেন এলাকাবাসী। এক সময় এই রেলস্টেশনটি উপজেলার বাগজানা, ধরঞ্জি ও আটাপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম ছিল। কিন্তু লোকবল সংকটসহ বিভিন্ন কারণে রেলস্টশনটি বন্ধ হওয়ায় এখন ওই এলাকাবাসীর কাছে তা শুধুই স্মৃতি।

জানা গেছে, বাগজানা রেলস্টেশনটি স্থাপনের আগে উপজেলার বাগজানা ও ধরঞ্জি আটাপুর ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের যানবাহন ও রাস্তাঘাটের অবস্থা ছিল করুণ। এসময় স্টেশন স্থাপনে প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেন মরহুম ওয়াসীম মাস্টার সেই সাথে, তিন ইউনিয়নবাসীর কষ্ট লাঘবের কথা মাথায় রেখে হাকিমপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক, আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, আওফের হোসেন, মোবারক আলী, মরহুম আকরাম  হোসেন, মরহুম মাহমুদুল হক, সাখাওয়াত হোসেন, দুলাল অধিকারী প্রমুখ ব্যক্তিগণ ও স্থানীয় যুব সমাজকে সঙ্গে নিয়ে ১৯৭৪ সালে কাঙ্খিত স্বপ্ন পূরণ করেন। তৎকালীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী জয়পুরহাটের কৃতি সন্তান মরহুম ড. মফিজ চৌধুরী বাগজানা রেলস্টেশনটি প্রথম উদ্বোধন করেন। কিন্তু এর কিছুদিন পর স্টেশনটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯৭৯ সালে মন্ত্রী মশিউর রহমান যাদু জয়পুরহাটের চকবরকতের জনসভায় বাগজানা স্টেশনটি পুনরায় স্থাপনের ঘোষণা দিলে স্থানীয় ব্যক্তিদের উদ্যোগে বাঁশ-খড় দিয়ে তৈরি করা হয় অস্থায়ী টিকিট ঘর। টিকিট ঘরটি তখন যাত্রীদের যাতায়াতের উৎসাহ যোগায়। পরবর্তীতে তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী মরহুম আলহাজ্ব আব্দুল আলীম প্লাটফর্ম নির্মাণ করেন। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত ২টা পর্যন্ত এই স্টেশনে দু’মিনিটের জন্য ৮টি লোকাল ট্রেন দাঁড়াতো। এদিকে যাত্রী সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি ও রাজস্ব বৃদ্ধির কারণে রেল কর্তৃপক্ষ টিন সেডের বদলে পাকা টিকেট ঘর নির্মানের কাজ দেয় সোনার বাংলা ট্রান্সপোর্টকে, ঘরটি আংশিক তৈরিও হয়। অদৃশ্য কারণে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯৮৬ সালে রেল কর্তৃপক্ষ লোকসান দেখিয়ে স্টেশনটি বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মরহুম অলিউজ্জামান আলমের চেষ্টায় তৎকালীন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী ও পাঁচবিবির মরহুম আবু নাছের খান ভাসানী স্টেশনটি পুনরায় চালু করেন। এভাবে কিছুদিন চলার পরে কর্তৃপক্ষ আবারও স্টেশনটি বন্ধ ঘোষণা করে। সর্বশেষ ১৯৯২ সালে রেল ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব নুরুল ইসলাম এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা বিবেচনা করে স্টেশনটি চালু করেন। হঠাৎ ২০০৫ সালে রেল কর্তৃপক্ষ লোকবল আর ইঞ্জিন সংকটের কারণ দেখিয়ে পুনরায় স্টেশনটি বন্ধ ঘোষণা করে দেয়।

বাগজানা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন, দুলাল অধিকারী, আলহাজ্ব মোবারক হোসেন ও এলাকাবাসী দাবি করেন, যেহেতু হিলি রেল স্টেশনটি ভারত ও বাংলাদেশে জিরো পয়েন্টে অবস্থিত দিবারাত্রীর কোন ট্রেন স্টপেজ নেই সেহেতু বাগজানা রেল স্টেশনটি সংস্কার করে পার্বতীপুর থেকে খুলনাগামী রকেট মেল ও পার্বতীপুর হতে রাজশাহীগামী উত্তরা এক্সপ্রেস ট্রেন দু’টি দাঁড় করানোয় প্রধানমন্ত্রী ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ কামনা করেন।

স্থানীয় এমপি এড. সামছুল আলম দুদু স্টেশনটি চালুর ব্যাপারে উদ্যোগ নেবেন জানিয়ে বলেন, সরকার বন্ধ থাকা ছোট ছোট রেলস্টেশনগুলো আবারও চালুর কথা ভাবছে সেক্ষেত্রে বাগজানা স্টেশনটিও যাতে চালু হয় সে ব্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়