কৃষকের স্বপ্ন ফলাতে এনএসি’র পণ্য

হাইব্রিড ধানবীজের সর্বোচ্চ ফলন এখন জনকরাজ’র

প্রকাশিত: আগস্ট ০৪, ২০২২, ১০:১৮ রাত
আপডেট: আগস্ট ০৪, ২০২২, ১০:১৮ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বালেন্দার ১০০ বিঘা জমির উপর ১ লাখ ১৯ হাজার ৪০০ বর্গমিটারের যে বিশাল ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুখ, সেই ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ লার্জেস্ট ক্রপ ফিল্ড মোজইক (ইমেজ) নতুন বিশ্ব রেকর্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বেশিদিন আগের কথা সেটি নয়। গত বছরের ১৪ মার্চ। এই কর্মযজ্ঞের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন তাদের নামের সাথে একটি প্রতিষ্ঠানের নাম যথার্থভাবেই বার বার উচ্চারিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে সেটা হলো ‘ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার’ (এনএসি)। এই প্রতিষ্ঠানেরই উৎপাদিত সবুজ ধান ও চীন থেকে তাদেরই আমদানিকৃত গাঢ় বেগুনি রঙের ধান দিয়েই তৈরি করা হয়েছিল বিশ্বজয়ী ওই শস্যচিত্র নির্মাণ করা হয়েছিল।

শুধু এই ক্ষেত্রেই নয়, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে ‘ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার’ নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। সুপার হাইব্রিড হিসেবে দেশের সর্বাধিক ফলনযুক্ত বোরো ধানের বীজ উৎপাদন করছে এই  প্রতিষ্ঠান। এ কথা উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও এমডি কৃষিবিদ কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান সিআইপি বলেন বর্তমানে দেশে প্রচলিত হাইব্রিড ধানবীজের সর্বোচ্চ ফলন একরে ১০৫ মণ। সেক্ষেত্রে ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের উৎপাদিত ‘জনকরাজ’ ব্রান্ডের ধানের বীজ থেকে একরে ১১০ থেকে ১২০ মণ ধান উৎপাদন হয়। অথচ এ জন্য সার বা অন্যান্য খাতে বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে না। এ ব্যাপারে তিনি বলেন চীনা জাতের এই ধান বীজ যথাযথভাবে বাছাইসহ সংরক্ষণ করা হয়। বাজারজাতও করা হয় সতর্কতার সাথে।

বগুড়ার কাহালু উপজেলার দরগাহাট এলাকায় ১৩ একর জমির উপর ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের বীজ প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে অত্যাধুনিক মেশিনের সাহায্যে চার স্তরে বীজ বাছাই করে, তা নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণের পর বিশেষ উপদান দিয়ে কোটিং করে ধানবীজগুলো প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করা হয়।

ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের এমডি বলেন, ৭২জন কৃষিবিদসহ বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারি বীজের মান অক্ষুন্ন রাখার ব্যাপারে কাজ করছেন এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই বীজ দেশে প্রচলিত হাইব্রিড ধানবীজের চাহিদার দিক দিয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে পৌছে গেছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আজ প্রতিষ্ঠানের বীজ প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে এর তিনটি সংরক্ষাগারেই নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বীজ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতিটি সংরক্ষণাগারের ধারণ ক্ষমতা ৮০০ মে.টন। সব চেয়ে লক্ষ্যণীয় যে, এসব সংরক্ষণাগারে শুধু তাদেরই ধানবীজই নয় একাধিক বহুজাতিক ও নামকরা কোম্পানির ধানবীজও এখানে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ‘জনকরাজ’ ব্রান্ডের ধানের বীজ থেকে শতভাগ অঙ্কুরোদগম হচ্ছে কি না সেখানেই ব্যাচওয়ারি পরীক্ষা করা হচ্ছে। অর্থাৎ বীজ নিয়ে যেন কৃষকরা প্রতারিত না হন এবং এই বীজ থেকে ধান উৎপাদন যাতে শতভাগ হয়, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েই তা বাজারজাত করা হয়।

শুধু মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণই নয, বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লার সন্তান কৃষিবিদ কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান কৃষকের ভাগ্য বদলানোর জন্য ‘এসো স্বপ্ন ফলাই’ শ্লোগানে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার। তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের এগ্রোকেমিক্যালের প্রচলন করেন দেশে। গুণগত মান ঠিক রেখে তুলনামূলক বাজারমূল্যে কৃষকদের দোর গোড়ায় পৌছে দেন সেই সব। নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন করে টেকসই খাদ্য নিরাপত্তার বলয় সৃষ্টিতে পালন করে যাচ্ছেন। আর লক্ষ্যেই বগুড়া বিসিক শিল্প নগরীতে প্রতিষ্ঠা করেছেন অপেক্ষাকৃত নিরাপদ বালাইনাশক কারখানা।

কৃষির পাশাপাশি গবাদি পশুর স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য উদ্যোগী হয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন ওয়ান ফার্মা লিমিটেড। বগুড়ার বিসিক শিল্প নগরীতে অবস্থিত ওয়ান ফার্মার ওষুধ দেশ ছাড়াও ইউরোপ, আমেরিকাসহ আফ্রিকাতেও যাচ্ছে। ভিন্নভাবেও চিহ্নিত করা যায় কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমানকে। ডিজিটাল বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে তিনি সিঙ্গাপুরের সাথে জয়েন্ট ভেঞ্চারে প্রতিষ্ঠা করেছেন ওয়ান আইসিটি। এ ছাড়াও চীনের সাথে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন রিয়েল স্টেট ‘চায়না গার্ডেন সিটি’। 

বৃহত্তর বগুড়া সমিতি, বগুড়ার বর্তমান সভাপতি কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান বগুড়ার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, শারীরিক ফিটনেস, দুঃখীদের স্বচ্ছলতায় নানাভাবে সহযোগিতা করার পাশাপাশি তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন চিন্তা লিমিটেড, হিমিকাস এঞ্জেলস ফর হিউম্যানিটি, সৈয়দ মোমনা মমতাজ ফাউন্ডেশন।

তাদের উৎপাদিত ও আমদানী করা ধানে শস্যচিত্র ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’র বিশ্বজয়কে তিনি স্বপ্নের বিশ্বজয় বলে অভিহিত করলেও তার প্রপ্তির ঝুলিতে রয়েছে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সিআইপি’র মর্যাদা, রাষ্ট্রপতি শিল্প পদক, গ্লোবাল উদ্যোক্তা এওয়ার্ড।

আজ কাহালুর বীজ প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রে বগুড়ার সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়কালে তিনি বলেন এসব প্রাপ্তি তাকে সাহস যোগায় বগুড়াকে আন্তর্জাতিকমানের শিল্পনগরীতে রূপান্তরে। এজন্য তিনি বগুড়ার রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, সকল পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক ও বগুড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোজাম্মেল হক এবং বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহমুদুল আলম নয়নের নেতৃত্বে বগুড়ার একদল সাংবাদিক ওই বীজ প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে তিনি তাদের সাথে এই মত বিনিময় সভায় মিলিত হন। এসময় সেখানে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, বগুড়া প্রেসক্লাবের  সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন মিন্টু, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি কৃষিবিদ ড. সিদ্দিকুর রহমান, মিসেস সিদ্দিকুর রহমান, বৃহত্তর বগুড়া সমিতি, ঢাকার সাবেক সাধারণ সম্পাদক একে এম কামরুল ইসলাম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফ ম জিন্নাতুল ইসলাম তপন, দৈনিক করতোয়ার বার্তা সম্পাদক ও বগুড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য শংকর, বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জেএম রউফসহ বগুড়া প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে আব্দুস সালাম বাবু, মাসুদুর রহমান রানা, এসএম কাওছার, সাজেদুর রহমান সিজু, তোফাজ্জল হোসেন,  শফিউল আযম কমল, কমলেশ মহন্ত শানু, এইচ আলিম, লতিফুল করিম, সাইফুল ইসলাম, ঠান্ডা আজাদ, ফরহাদুজ্জামান শাহী, তানসেন আলম, নাজমুল হুদা নাসিম ও আব্দুর রহিম, সাংবাদিক আব্দুর রহমান টুলু, আনোয়ার পারভেজসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাদের কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সবার মাঝে উপস্থাপন করা হয়। ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা এই কেন্দ্রের বিভিন্ন বীজাগার ও  প্রকল্প ঘুরিয়ে দেখান।

শেষে বগুড়া প্রেসক্লাবের ভবন নির্মাণ কাজের জন্য ৫ লাখ টাকার অনুদানের চেক প্রদান করে ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার’র এমডি কৃষিবিদ কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়