কুড়িগ্রামে গোপনে টিসিবি’র ২ টন পঁচা ডাল, চিনি ও ছোলা গর্তে

প্রকাশিত: আগস্ট ০৪, ২০২২, ০৯:০৪ রাত
আপডেট: আগস্ট ০৪, ২০২২, ০৯:০৪ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে টিসিবি’র প্রায় ২ টন পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত ডাল, ছোলা ও চিনি রাতে গোপনে মাটির গর্তে চাপা দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জেলা প্রশাসন দপ্তরের ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের পিছনে গাছপালার আড়ালে এসব পণ্য লুকিয়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের ব্যবসা ও বাণিজ্য শাখা সূত্রে জানা যায়, জেলায় টিসিবি’র কার্ডধারী ভোক্তার সংখ্যা ২ লাখ ৭৭ হাজার ৮৮০ জন। দুই দফায় ৩ হাজার ৮৯০ টন মালামাল বরাদ্দ আসে। জেলায় টিসিবির ডিলার সংখ্যা ৪৩ জন।  অদক্ষ শ্রমিক এবং কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে প্রায় ২ টন খাদ্য পণ্য নষ্ট হয়। এসব পঁচা পণ্যের কি করা হবে তার সিদ্ধান্ত চেয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম গত ৯ জুন টিসিবি’র চেয়ারম্যান বরাবর পত্র প্রেরণ করে। ২৩ জুন টিসিবি’র চেয়ারম্যানের দপ্তরের উপসচিব শেখাবুর রহমান স্বাক্ষরিত ৩৭২ নং স্মারকে পত্রে জেলা প্রশাসককে কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নিতে বলেন। এরই প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এ কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিনহাজুল ইসলাম ও সদস্য হলেন জেলা ত্রাণ বিষয়ক কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার এবং টিসিবি’র রংপুর অফিসের সহকারি পরিচালক জামাল উদ্দিন। গত ১৮ জুলাই কমিটি সরেজমিন তদন্ত করে খাওয়ার অযোগ্য এসব পণ্য ডিসপোজালের সুপারিশ করেন ১৯ জুলাই। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২ আগস্ট রাতে জেলা প্রশাসন চত্বরের ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের পিছনে গাছপালার আড়ালে এসব পণ্য গর্তে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিনহাজুল ইসলাম জানান, ট্রেডিং করপরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে তদন্ত কমিটির সুপারিশ ক্রমে এসব খাদ্য পণ্য মাটিতে পুতে নষ্ট করা হয়। এটাকে অনিয়ম বা অপচয় বলার অবকাশ নেই। কারণ স্বল্প আয়ের নির্ধারিত কার্ডধারীদের মাঝে ডাল, চিনি, তেল ও ছোলার প্যাকেজ দেয়া হতো। বড় বড় বস্তায় এসব মালামাল আসতো। পরে এখানে তা ওজন করে ছোট ছোট প্যাকেট করা হতো। পরে তা ডিলারদের মাঝে বরাদ্দ অনুসারে সরবরাহ করা হয়। এসময় এসব খাদ্য পণ্য মেঝেতে পরে যায়। নষ্ট এসব পণ্য পরে বস্তায় ভরে রাখা হয়। ফলে ইচ্ছাকৃত কোন কিছুই ছিল না।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়