ইউরিয়া সারের দাম বৃদ্ধিতে দুশ্চিন্তায় দিনাজপুরের কৃষক

প্রকাশিত: আগস্ট ০৪, ২০২২, ০৭:৪৭ বিকাল
আপডেট: আগস্ট ০৪, ২০২২, ০৭:৪৭ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

দিনাজপুর অফিস: আমন আবাদের শুরুতেই সরকার ইউরিয়া সারের দাম বৃদ্ধি করায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে ধানের জেলা দিনাজপুরের কৃষকরা। কৃষকরা বলছেন, প্রতিকেজি ইউরিয়ায় ৬ টাকা দাম বৃদ্ধি করায় এখন প্রতি একর জমিতে আমন আবাদ করতে খরচ বাড়বে ৫শ’ টাকা, আর বোরো আবাদে এই খরচের মাত্রা বাড়বে আরও বেশি। তবে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তরা বলছেন, দাম কিছুটা বৃদ্ধির ফলে কৃষকদের মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়ার ব্যবহার কমবে এবং দাম ভালো পেলে কৃষকরা তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

জানা গেছে, গত ১ আগস্ট থেকে ডিলার পর্যায়ে প্রতি কেজি ইউরিয়া সারের দাম ৬ টাকা বাড়িয়ে ১৪ টাকা থেকে ২০ টাকা এবং কৃষক পর্যায়ে ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। আমন আবাদের শুরুতে এই দাম বৃদ্ধি করায় উদ্বেগ জানিয়েছে দিনাজপুরের আমন চাষিরা। তারা বলছেন, দাম বৃদ্ধির ফলে আমন আবাদে এখন তাদের বাড়তি টাকা গুনতে হবে।

দিনাজপুর সদর উপজেলার উত্তর মহেষপুর গ্রামের কৃষক সলিল বসাক জানান, প্রতি একর জমিতে আমন আবাদ করতে ইউরিয়া সারের প্রয়োজন হয় ৮০ থেকে ৯০ কেজি, টিএসপি সার লাগে ২০ কেজি, পটাশ ২০ কেজি, জিংক ২ কেজি এবং সালফারের প্রয়োজন হয় এক কেজি। আর কীটনাশক প্রয়োগ করতে খরচ হয় ৪২শ’ টাকা থেকে ৪৩শ’ টাকা। জমিতে হালচাষ, ধান রোপণ থেকে কর্তন পর্যন্ত সারসহ সব মিলিয়ে প্রতি একর জমিতে আমন আবাদ করতে খরচ হতো ১৬/১৭ হাজার টাকা। আর আমন আবাদ হয় প্রতি একরে ৪০ থেকে ৪৫ মণ। ধান বিক্রি করে অধিকাংশ টাকাই চলে যায় এই উৎপাদন খরচে। হঠাৎ ইউরিয়া সারের দাম বৃদ্ধিতে প্রতি একর জমিতে বাড়তি খরচ গুনতে ৫ থেকে ৬শ’ টাকা। তাই ধানের দাম ভালো না পেলে লোকসান গুনতে হবে তাদের। এ জন্য সরকারের প্রতি ধানের ন্যায্যমুল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) খালেদুর রহমান বলেন, কৃষকরা বরাবরাই মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার করে থাকেন। এ বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করার চেষ্টা করা হলেও কৃষকরা বেশি বেশি ইউরিয়া সার ব্যবহার করে থাকেন। তিনি বলেন, দাম কিছুটা বৃদ্ধির ফলে কৃষকরা জমিতে মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া সারের ব্যবহার কমাবে। এতে জমির উর্বরা শক্তিও হ্রাস পাবে না। তাছাড়া বোরো ধানের মতো কৃষকরা আমনেও দাম ভালো পেলে, ইউরিয়ার দাম কেজি প্রতি ৬ টাকা বৃদ্ধিতেও কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।

খালেদুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে দিনাজপুর জেলায় ২ লাখ ৬০ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২ আগস্ট পর্যন্ত ৬০ শতাংশ জমিতে আমন রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়