নাটোরে শিক্ষককে মারপিট ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার পুলিশ মোতায়েন

প্রকাশিত: আগস্ট ০৪, ২০২২, ০৭:৩৫ বিকাল
আপডেট: আগস্ট ০৪, ২০২২, ০৭:৩৫ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরে মাদ্রাসা শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) জাফর বরকতকে (৫২) মারপিটের ঘটনায় লক্ষ্মিপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান কালুকে (৬০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পক্ষে বিপক্ষে মানববন্ধন করেছে ইউপি চেয়ারম্যান সমর্থক ও মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাদ্রাসা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

গতকাল বুধবার রাতে শহরের কানাইখালি এলাকা থেকে চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান কালুকে গ্রেফতার করা হয়। এরআগে ভুক্তভোগী শিক্ষক বাদি হয়ে লক্ষ্মীপুর খোলাবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান কালু, তার ছেলে জয়সহ ৭ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৮ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা দায়েরের পরই পুলিশ অভিযান শুরু করে। ভুক্তভোগী জাফর বরকত হযবতপুর গোলাম ইয়াছিনিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত আছেন। এদিকে চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারের পর শাস্তির দাবিতে গতকাল সকালে মাদ্রাসা এলাকায় মানববন্ধন করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা।

অপরদিকে চেয়ারম্যানের মুক্তির দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মানববন্ধন করেছে চেয়ারম্যান সমর্থকসহ ইউপি সদস্যরা। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্তিতি সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে মাদ্রাসা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খালিদ হাসানের নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং মাদ্রাসায় ক্লাস চলছে।

নাটোর সদর থানার ভাপরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছিম আহমেদ জানান, হয়বতপুর গোলাম ইয়াসিনিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি পরিবর্তনের দাবি নিয়ে বুধবার দুপুরে ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান কালু, ছেলে জয়সহ প্রায় ১৪/১৫ জনের একটি দল মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে খুঁজতে থাকে। এ অবস্থায় অধ্যক্ষকে না পেয়ে শিক্ষকদের গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে চেয়ারম্যানসহ তার লোকজন। এসময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাফরের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং মারধর শুরু করে। পরে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাফরকে টেনে হেঁচরে মারপিট করতে করতে বিবস্ত্র করে ফেলে এবং পাশেই ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে আটকে রাখে। সেখানেও তাকে মারপিটসহ নানাভাবে নির্যাতন করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষক জাফরকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় শিক্ষক জাফর বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে রাতেই অভিযান চালিয়ে চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে দুপুরের দিকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মাদ্রাসায় ক্লাস চলছে। পুলিশ তৎপর রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন মাস আগে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম মাসুমকে ওই মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সে সময় লক্ষীপুর খোলাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান কালুও সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু তিনি সভাপতি হতে না পরায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এ নিয়ে মাঝে মধ্যেই মাদ্রাসায় বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার দুপুরে চেয়ারম্যান ও তার লোকজনসহ মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাফর বরকতকে মারপিট করে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়