বগুড়া-চন্দনবাইশা সড়ক

জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবৈধ বার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে যান চলাচল

প্রকাশিত: আগস্ট ০৩, ২০২২, ০৯:২৩ রাত
আপডেট: আগস্ট ০৩, ২০২২, ০৯:২৩ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

স্টাফ রিপোর্টার: নিময় না থাকলেও পূর্ব বগুড়ার সাথে চলাচলকারী জনগুরুত্বপূর্ণ বগুড়া-চন্দনবাইশা রাস্তার দ্বিতীয় বাইপাস সড়কসংলগ্ন মুখে ৬ ইঞ্চি মোটা লোহার পাইপের বার বেঁধে দিয়েছেন ওই রাস্তার ঠিকাদার। শুধু ঠিকাদারী কাজের চূড়ান্ত বিল উত্তোলনের জন্য তিনি নিয়ম বহির্ভুতভাবে গত মঙ্গলবার এই কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসীসহ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অফিসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। কারণ, এর আগেই ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ ওঠে।

সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা থেকে শুরু করে গাবতলী উপজেলার গোলাবাড়ি এলাকা হয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন পরিবহনে এই রাস্তা দিয়ে বগুড়ার মূল শহরে প্রবেশ করে। গাবতলী উপজেলার গোলাবাড়ি মাছের আড়ৎ, তরণী ও পেরিরহাট, অদ্দিরগোলার সবজির বাজারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র এই রাস্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এসব বাণিজ্যিক কেন্দ্রের অনেক ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সড়কের ওই বারের কারণে। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীবাহী গাড়ি, জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িসহ কৃষি পণ্য বেচাকেনাতেও স্থবিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন ওই এলাকার মানুষ। অথচ রাস্তার ৩.৬ কিলোমিটার অংশের মেরামত ও প্রসস্থকরণের কাজে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ ওঠে শুরুতেই।

সাবগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন সরকার বলেন, ওই রাস্তার কাজের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ওই বার বেঁধে দিয়েছেন। এতে সাবগ্রাম এলাকার মানুষসহ পূর্ব বগুড়ার হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। সদর উপজেলা প্রকৌশলীকে বিষয়টি জানালে তিনি মাত্র কয়েক দিনের জন্য বারটি থাকবে বলে মূল বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করেন।

সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার একরামুল করিম বলেন, তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়েই বারটি বেঁধেছেন। তিনি আরও বলেন, শুধু ৫০/৬০ টন ওজনের বড় দশ চাকার গাড়ি চলাচল বন্ধ করে রাস্তা ঠিক রাখার জন্য এ কাজ করা। এতে অন্যান্য গাড়ি চলাচলের কোন অসুবিধা হবে না বলে দাবি করেন তিনি।

অথচ সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই রাস্তায় চলাচলকারী ছোট ছোট ভটভটি ও পণ্যবাহী অনেক ট্রাক ওই বারের কারণে চলাচল করতে পারছে না। এছাড়াও ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল-কলেজের গাড়িগুলো। পাশাপাশি অগ্নিকান্ডের মতো ঘটনা ঘটলে যেতে পারবে না ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও। এতে চরম ঝুঁকিতে পূর্ব বগুড়ার হাজার হাজার মানুষ।

জানতে চাইলে এলজিইডি বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম মোর্শেদ বলেন, এরকম জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় এভাবে বার বেঁধে দেওয়ার কোন নিয়ম নেই। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ওই রাস্তা সংস্কারে নিম্নমানের কাজ করেছেন। আমি দু’বার সরেজমিনে এমন প্রমান পেয়েছি। ওই বার বেঁধে দেওয়া সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভুত।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়