বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে হার্টের ব্লক অপসারণ ও  রিং পরানোর কার্যক্রম শুরু

প্রকাশিত: জুলাই ৩১, ২০২২, ০৯:০২ রাত
আপডেট: জুলাই ৩১, ২০২২, ০৯:০২ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে হার্টের রোগীর ব্লক অপসারণ (এনজিও প্লাস্টি ও স্টেন্টিং) রিং পরানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের পরিচালক প্রফেসর মীর জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক রোববার শজিমেক হাসপাতালে ৩জন রোগীর স্টেন্টিং (রিং পরানো) ও ৮জন রোগীর এনজিওগ্রাম সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। এতে করে বগুড়াসহ উত্তরের ১২ জেলার মানুষের হৃদরোগ চিকিৎসা জটিলতার নিরসন হতে চলেছে। আগামী ৩ মাসের মধ্যে বগুড়ার এই হাসপাতালের চিকিৎসকগণ অত্যাধুনিক এই চিকিৎসায় সার্বিক সক্ষমতা অর্জন করবেন বলে ঢাকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ জানিয়েছেন।

শজিমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে ক্যাথলাব স্থাপন করা হয়। ২০০৭ সালে এনজিওগ্রাম শুরুর পরই তা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০১৬ সাল থেকে আবার এনজিওগ্রাম শুরু হলেও সেটির ধারাবাহিকতা ছিল না। এরই মধ্যে এনজিওগ্রাম মেশিনটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। পুরনো মেশিনের বেহাল অবস্থার কারণে ২০১৯ সালে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন মেশিন স্থাপন করা হয়।

এর কিছুদিন পরই করোনা দেখা দিলে এনজিওগ্রাম কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। গত বছরের মার্চ থেকে আবারও এনজিওগ্রাম কার্যক্রম হয়। এনজিওগ্রাম হলেও এই হাসপাতালে রিং পরানোর ব্যবস্থা ছিলো না। রোগীরা এখানে এনজিওগ্রাম করলেও তাদের রিং পরানোর প্রয়োজনে ঢাকায় যেতে হতো। একারণে ওই বছরের ৪ ডিসেম্বর হতে এই হাসপাতালে স্বল্প খরচে রিং পরানো কার্যক্রম শুরুহয়।

রিং পরানো কার্যক্রম শুরুর পর এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট শজিমেক এর চিকিৎসক, টেকিনিশিয়ান ও নার্সদের পারদর্শী করে তুলতে প্রতিমাসে একটি বিশেষজ্ঞ দল বগুড়ায় এসে চিকিৎসক ও সহযোগিদের নিয়ে এই কার্যক্রম চালু করেন।

শজিমেক হাসপাতালে কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. শেখ শহীদুল হক জানান, গত বছরের ডিসেম্বরের পর থেকেই প্রতিমাসে এখানে রিং পরানো কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় রোববার ঢাকার বিশেষজ্ঞ দলের সহযোগিতায় ৩জন রোগীর স্টেন্টিং ও ৮জন রোগীর এনজিওগ্রাম সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। ঢাকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলে ছিলেন ইউনাইটেড হাসপাতালের ডা. কায়সার নাসিরুল্লাহ খান, জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ডা. মহসীন আহমেদ সোহেল, ডা. আনিসুর রহমান, ডা. রতন ও ডা. রুমি।

শজিমেকের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডাঃ রেজাউল আলম জুয়েল জানিয়েছেন, এক সময় দিনাজপুর হার্ট ফাউন্ডেশন ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনজিওগ্রাম হতো, সেটাও অনেকদিন বন্ধ রয়েছে। এই অঞ্চলে শুধুমাত্র রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এটি চালু। একারণে এই অঞ্চলের গরীব ও সাধারণ মানুষকে অনেক টাকা ব্যয়ে ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নিতে হতো। এখন থেকে তাদের আর সেই সমস্যা থাকবেনা। বিশেষ করে রংপুর বিভাগের জেলাসহ বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জসহ ১২ জেলার মানুষ এখানে স্বল্প খরচে শজিমেক হাসপাতালে এই চিকিৎসা নিতে পারবেন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের অন্যতম সদস্য ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ডা. মহসীন আহমেদ সোহেল জানান, এখন থেকে যেহেতু নিয়মিত এই হাসপাতালে এনজিওগ্রামসহ রিং পরানো কার্যক্রম চলবে। সে কারণে আগামী ৩ মাসের মধ্যে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগ সব সক্ষমতা অর্জন করবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়