ইছামতির কচুরিপানায় ২৫ গ্রামে দুর্ভোগ

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২২, ০৭:৪২ বিকাল
আপডেট: মে ১২, ২০২২, ০৭:৪২ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি: ইছামতি নদীর পানি কচুরিপানার কারণে পাবনার বেড়াসহ পাশের উপজেলার ইছামতি নদীপারের গ্রামগুলোর পরিবেশ মারাত্মক দূষিত হয়ে পড়েছে। বিকল্প উপায় না থাকায় নদী পারের বাসিন্দারা গৃহস্থালিসহ নানা কাজে বাধ্য হচ্ছেন নদীর দূষিত পানি ব্যবহার করতে। এতে নদী পারের অন্তত ২৫টি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কচুরিপানার কারণে পানি পচে যাওয়ায় নদীটি মশার আদর্শ প্রজনন ক্ষেত্রে যেমন পরিণত হয়েছে তেমনি অনেকেই চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।


এলাকাবাসী ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, ইছামতী নদীকে ১৯৯০ সালে পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এনে একে প্রধান সেচখালে রূপান্তরিত করা হয়। প্রধান সেচখালে রূপান্তরিত করা হলেও ইছামতী পারের অসংখ্য মানুষ গোসলসহ গৃহস্থালির নানা কাজে এর পানি ব্যবহার করে আসছিলেন। কিন্তু ঘন কচুরিপানা জন্মানোয় সাত থেকে আট বছর ধরে গৃহস্থালি কাজে এর পানি আগের মতো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। শুধু তাই নয়, কচুরিপানার কারণে ইছামতীতে নৌ-চলাচলও বন্ধ রয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে কচুরিপানা পচে যাওয়ায়। পচা কচুরিপানার কারণে পানি দূষিত হওয়ায় দুর্গন্ধে একদিকে বসবাস যেমন মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে তেমনি এই পানি পরিণত হয়েছে মশার প্রজনন ক্ষেত্রে।


ইছামতী নদীর ৪২ কিলোমিটার পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নযন প্রকল্পের আওতাভূক্ত। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বেড়া উপজেলার চরপাড়া গ্রাম থেকে শুরু করে সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউড়ি পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার অংশ জুড়ে জন্মেছে ঘন কচুরিপানা। কচুরিপানার কারণে কোথাও পানি দেখার উপায় নেই। গৃহস্থালির প্রয়োজনে এলাকাবাসী কোনো কোনো স্থানে বাঁশের বেড়া দিয়ে কচুরিপানা ঠেকিয়ে সামান্য জায়গা বের করলেও সেই পানি কালো বর্ণের দুর্গন্ধযুক্ত।


পাউবোর বেড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থ না পাওয়ায় কচুরিপানা অপসারণ সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে এ সংক্রান্ত অর্থ বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থ বছরের শুরুতে এ ব্যাপারে অর্থ বরাদ্দ হতে পারে বলে শুনতে পাচ্ছি। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই কচুরিপানা অপসারণের কাজ শুরু হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়