ফুলবাড়ীর শাখা যমুনা নদী এখন মরা খাল

নদীটি খনন করে রাবার ড্যাম নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর

প্রকাশিত: মে ১১, ২০২২, ০৭:৩৯ বিকাল
আপডেট: মে ১১, ২০২২, ০৭:৩৯ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা সদর হয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা শাখা যমুনা নদী দীর্ঘদিন খনন কাজ না হওয়ায় এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। বছরের অধিকাংশ সময় নদীতে পানি থাকে না। নদীর তলদেশ ভরে উঠেছে, নদীর দুই পাড় ক্রমেই দখল হয়ে যাচ্ছে। একই সাথে নদীর বুক চিরে চাষ হচ্ছে ফসল। অথচ এক সময় এই নদীই ছিল এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার একমাত্র উৎস, এখন সেসব শুধুই স্মৃতি। এলাকাবাসীর দাবি নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণ করে বর্ষাকালের পানি ধরে রেখে কৃষি কাজে ব্যবহার করার উপযোগী করে তোলা ।


দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলা সদর হয়ে বয়ে যাওয়া এই শাখা যমুনা নদী দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার বিন্যাকুড়ি নামক স্থানে ইছামতি নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে ফুলবাড়ী উপজেলার পৌরসভাসহ তিনটি ইউনিয়ন অতিক্রম করে পার্শ্ববর্তী বিরামপুর, হাকিমপুর উপজেলা হয়ে ভারতের পশ্চিম বাংলার দক্ষিণ দিনাজপুরের কিছু দূর প্রবাহিত হয়ে আবারও বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ত্রিমোহনী যমুনা ও আত্রাই নদীতে মিলিত হয়েছে। এর মধ্যে ফুলবাড়ী উপজেলায় প্রায় ২৫ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে। নদীটির দৈর্ঘ্য ৭০.০০ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ ৮৫.০০ মিটার।


এলাকাবাসীরা বলছেন, শাখা যমুনা নদী এক সময় এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে একমাত্র মাধ্যম ছিল। এই নদীকে কেন্দ্র করে নদীর তীরে গড়ে উঠেছে শহর এবং হাজারো বসতি। নদীটি দীর্ঘ সময় সংস্কার না করায় পাড়ের ধোয়া নেমে নদীটির তলদেশ ভরে উঠেছে। ফলে নদীটি এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বন্যায় নদীর তলদেশে পলি জমে নদীটির নাব্যতা হারিয়ে যাচ্ছে, নদীর পাড় দখল করে অনেকে গড়ে তুলেছে দালানকোঠা। নদীতে ফেলা হচ্ছে পৌর শহরের ময়লা আবজর্না, এতে নদী দূষণ হচ্ছে।


নদী দুষণের বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর মেয়র আলহাজ মাহমুদ আলম লিটন বলেন, পৌরসভার আবর্জনা ফেলার নিজেস্ব জায়গা না থাকায় বর্তমানে সেগুলো নদীতে ফেলা হচ্ছে। চেষ্টা করা হচ্ছে ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা করার, সেটি হলেই নদীতে আর ময়লা ফেলা হবে না।


পরিবেশ রক্ষার্থে নদীটি সংস্কার করে পানি ধরে রাখা হলে শুধু কৃষি কাজেই উপকার হবে তা না, এখানে দেশি মাছেরও অভাব পূর্ণ হবে তাই রাবার ড্যাম নির্মাণ করে নদীতে বর্ষাকালের পানি ধরে রাখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। নদী বাঁচাও আন্দোলনের ফুলবাড়ীর নেতা ওয়াজেদুর রহমান বাবলু বলেন, আমাদের প্রকৃতি জীব বৈচিত্র্য নির্ভর করে নদীর ওপর, তাই নদী বাঁচাতে হবে, এইজন্য তিনি নদীকে খনন করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।


দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রাকিবুল হাসান বলেন, নদী খননের বিষয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে, আশা করছি পাশের বিরামপুর উপজেলায় শিগগিরই একটি বরাদ্দ পাওয়া যাবে, প্রথমে বিরামপুর ডাউন লেভের থেকে খনন শুরু হবে পর্যায় ক্রমে বরাদ্দ পেলে ফুলবাড়ী শাখা যমুনা নদীটিও খনন করা হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রিয়াজউদ্দিন বলেন সারা দেশে নদী খননের প্রকল্প চলছে। বরাদ্দ এলে খনন কাজ করা হবে।


ফুলবাড়ীর শাথা যমুনা নদীর বেহাল দশা নিয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান মিল্টন বলেন, নদীটি এক সময় অনেক গুরুত্ব বহন করতো। বিশেষ নৌকার মাধ্যমে মালামাল পরিবহন করা হতো। সময়ের পরিবর্তনে স্থল পথের উন্নয়ন হলে এটির ব্যবহার কমে যায়। তবে নদীটিতে প্রয়োজনীয় পানির প্রবাহ থাকলে এলাকায় সেচকাজের উন্নয়ন ঘটতো।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়