দশ দিনেও দুই বোন হত্যার ক্লু পায়নি পুলিশ, মা-বাবা রিমান্ডে

প্রকাশিত: মে ১০, ২০২২, ০৫:১০ বিকাল
আপডেট: মে ১০, ২০২২, ০৫:১০ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: হত্যার দশ দিন পেরিয়ে গেলেও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কানিচরিতাবাড়ি গ্রামের দুই বোন হাসি বেগম (১৪) ও খুশি বেগম (১২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। হত্যাকাণ্ড নিয়ে পরস্পর বিরোধী কথাবার্তা বলায় জেলহাজতে থাকা মা ও বাবাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল সোমবার আদালতে রিমান্ড আবেদন শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে পুলিশ রাতে মা ও বাবাকে থানা হাজতে নিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। 

মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ধুবনি কঞ্চিবাড়ি তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মানষ রঞ্জন দাস জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। আসামি গ্রেফতারসহ মামলার স্বার্থে এই মুহূর্তে তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে অতিদ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং আসামি গ্রেফতারের ব্যবস্থা করা হবে। হত্যার স্থানটি উপজেলা শহর হতে ৩০ কিলোমিটার দূরে দুর্গম চরাঞ্চলে হওয়ায় তদন্ত কাজ বিলম্ব হচ্ছে। 

উল্লেখ্য, গত রোববার বিকেলে হরিপুর ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চল পাড়াসাদুয়া গ্রামের তিস্তা নদীর কোলা (গভীর স্থান) হতে হাসি বেগম ও খুশি বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হাসি ও খুশির মা আদুরী বেগম ও বাবা হামিদুল ইসলাম হত্যাকান্ডের বিষয় নিয়ে পরস্পর বিরোধী কথাবার্তা বলায় ন্যায় বিচারের স্বার্থে উভয়কে গ্রেফতার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়। 

জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল বিকেলে ঈদের কেনাকাটা করে দেয়ার জন্য হাসি ও খুশিকে তার বাবা মোবাইল ফোনে কাশিমবাজারে ডাকে। সে মোতাবেক হাসি ও খুশি বাজারে চলে আসে। সন্ধ্যার পরও মেয়েরা বাড়িতে ফিরে না এলে হাসি ও খুশির মা আদুরী বেগম মোবাইল ফোনে মেয়েদের অবস্থান জানতে চায়। বাবা জানায় তারা চলে গেছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও রাতে তাদেরকে পাওয়া যায়নি। পরদিন  ১ মে সকালে স্থানীয়রা নদীর কোলার মধ্যে দুই বোনের লাশ পাওয়া যায়।

ওসি সরকার ইফতেখারুল মোকাদ্দেম জানান, দুই বোনর মা ও বাবাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আশা করা যাচ্ছে অল্প সময়ের মধ্যে প্রকত রহস্য উদঘাটন এবং আসামিদের প্রেফতার করা হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়