উদ্বোধনের আর মাত্র
০০
দিন
০০
ঘণ্টা
০০
মিনিট
০০
সেকেন্ড

কুড়িগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী হত্যা মামলায় ৬ জেএমবি’র ফাঁসি

প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২২, ১০:৫৩ রাত
আপডেট: জুন ২৩, ২০২২, ১০:৫৩ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:  কুড়িগ্রামে ধর্মান্তরিত বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী হত্যা মামলায় ৬ জেএমবি সদস্যকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালত। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল মান্নান জনাকীর্ন আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। এসময় আসামি রিয়াজুল ইসলাম মেহেদী ছাড়া বাকী ৫জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আসামিরা হলেন, জাহাঙ্গীর ওরফে রাজিব ওরফে রাজিব গান্ধী, রিয়াজুল ইসলাম মেহেদী, গোলাম রব্বানী, হাসান ফিরোজ ওরফে মোখলেছ, মাহবুব হাসান মিলন ওরফে হাসান ওরফে মিলন ও আবু নাসির ওরফে রুবেল। রায়ে হত্যা মামলায় ৩০২/৩৪/১০৯ ধারায় ৬ আসামিকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড নিশ্চিতের আদেশ দেন। এছাড়াও একই আদালত বিস্ফোরক আইনের ৩ ধারায়  আসামি জাহাঙ্গীর ওরফে রাজিব ওরফে রাজিব গান্ধী, রিয়াজুল ইসলাম মেহেদী ও গোলাম রব্বানীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের জেল এবং একই আইনের ৪ ধারায় ওই ৩ আসামিকে ২০ বছর কারাদন্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের হাজতবাসের আদেশ দেন।

রায় ঘোষণার পর পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আসামিরা নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করে কান্না করতে থাকেন। এসময় কান্না জড়িত কন্ঠে দাবি করেন আমরা ঘটনার কিছুই জানি না। আমরা নির্দোষ। আদালত মুলতবি ঘোষণা হলে তারা চিৎকার করে বিচারককে উদ্দেশ্য করে বলেন, তারা নির্দোষ। 

এর আগে আদালতপাড়ায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি মানুষকে সার্চ করে তারপর আদালত চত্বরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। বিকেল পৌনে তিনটার দিকে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগার থেকে আসািদের কঠোর নিরাপত্তার বলয়ে আদালতে হাজির করা হয়। মাত্র কুড়ি মিনিটের মধ্যে রায় পড়ে শোনান বিজ্ঞ বিচারক মো. আব্দুল মান্নান। রায় ঘোষণার পর পর আসামিদের কুড়িগ্রাম কারাগারে ফেরৎ পাঠানো হয়। কুড়িগ্রামের এই আলোচিত হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা হবে এ খবর পেয়ে মিডিয়া কর্মীরা বেলা ১১টা থেকে আদালত চত্বরে অবস্থান নেন। বার বার সময় পরিবর্তন হয়ে বিকেল ৩টায় এজলাসে বসেন বিচারক।

মামলায় সরকারি পক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট এস.এম আব্রাহাম লিংকন আদেশের কথা নিশ্চিত করে জানান, ২০১৬ সালের ২২ মার্চ কুড়িগ্রাম শহরের গাড়িয়ালপাড়া এলাকায় প্রাত:ভ্রমণের সময় ধর্মান্তরিত খ্রিস্টান মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলীকে কুপিয়ে হত্যা করে ককটেল ফাটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা। এ ব্যাপারে একটি হত্যা ও একটি বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ৭ নভেম্বর কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশ ১০ জেএমবি সদস্যকে অভিযুক্ত করে কুড়িগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট জমা দেয়।

তিনি আরো জানান, রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও অকার্যকর করতে এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। যা আসামিরা তাদের জবানবন্দিতে স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে তারা তাদের এই জবানবন্দি প্রত্যাহারও করেননি। এতেই প্রমাণ হয় সন্দেহাতিতভাবে তারা এই হত্যাকান্ড সংঘটিত করেছে। দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ এবং প্রমাণাদির ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল মান্নান এ রায় দেন। আমরা চাই দ্রুত এ রায় কার্যকর করা হোক।

অপরদিকে আসামি পক্ষের রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত লিগ্যাল এইডের এডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি আমরা হাতে পাইনি। রায়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আসামিরা চাইলে রায় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়