উদ্বোধনের আর মাত্র
০০
দিন
০০
ঘণ্টা
০০
মিনিট
০০
সেকেন্ড

২ হাজার লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে, চালু হবে টাউন সার্ভিসও

বগুড়ায় একদিন পর পর চলবে দু’রঙের ইজিবাইক

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২২, ০৮:৫০ রাত
আপডেট: জুন ২২, ২০২২, ০৯:১৬ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

মাসুদুর রহমান রানা: বগুড়া শহরে যানজট নিয়ন্ত্রণে দু’রঙের ইজিবাইক চলবে। আগামী ১ আগষ্ট থেকে ইজিবাইকগুলো চলাচল শুরু করবে। এর আগে লাল ও সবুজ রঙে ইজিবাইক বিভক্ত করা হবে। এরপর একদিন পর পর শহরে আলাদাভাবে লাল এবং সবুজ রঙ এর ইজিবাইকগুলো চলবে। সেইসাথে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে ২ হাজার ইজিবাইককে লাইসেন্স দেয়া হবে। এ সব ইজিবাইক বৈধ যান হিসাবে শহরের ভিতরে চলাচল করবে।

কিন্তু চিকন চাকার ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সাগুলোর ওপর দেয়া হবে নিষেধাজ্ঞা। সাতমাথাসহ শহরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না চিকন চাকার অটোরিক্সা। তবে এই রিক্সাগুলো শহরের ফিডার (বিকল্প) রোড়গুলোতে চলতে পারবে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পৌরসভা ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, রাজশাহী মহানগরে সকাল ও বিকেল দুই বেলায় দুই রঙের গাড়ি চলাচল করছে। অটোরিকশার মালিক ও চালকদের দেয়া হয়েছে স্মার্ট কার্ড। মাসের প্রথম ও তৃতীয় সপ্তাহে সকাল ছয়টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত মেরুন রঙের অটোরিকশা এবং বেলা আড়াইটা থেকে রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত হালকা সবুজ রঙের অটোরিকশা চলাচল করে। এ ছাড়া মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে সকাল ছয়টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত হালকা সবুজ রঙের ও বেলা দুইটা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মেরুন রঙের অটোরিকশা চলাচল করে। তবে শুক্রবারসহ সরকারি ছুটির দিনে রাত সাড়ে দশটা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত দুই রঙের অটোরিকশাই চলাচল করতে পারে। অটোরিকশা চলাচল ও যানজট নিয়ন্ত্রণে ‘স্মার্ট অটোরিকশা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ নামের এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পর থেকে অনেকটায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে যানজট। একইসঙ্গে রাজশাহী নগরীতে অটোরিকশা ও চার্জাররিকশা চালকদের নির্ধারিত পোশাকও দেওয়া হয়েছে।

তাই বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজশাহী মহানগরের আদলে বগুড়ায় এভাবে একই দিনেই সকাল ও বিকেলে দু’রঙের রিক্সা চালানোর অনুমতি দেয়া গেলে যানজট নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

তবে এ ব্যাপারে বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো: জিয়াউল হক জানান, একই দিনে দু’বেলা নয়, একদিন পর পর রঙিন ইজিবাইক চলবে। লাল ও সবুজ রং করে জোড় ও বেজোড় সংখ্যায় দু’ভাগে ভাগ করা হবে ইজিবাইকগুলো। এরপর একদিন পর পর ভাগ করে রিক্সাগুলো চলাচল করবে। জেলা প্রশাসক আর জানান, ২ হাজার ইজিবাইকের লাইসেন্স দেয়ারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। লাইসেন্স পাওয়া এই দু’রঙা ইজিবাইকগুলোই শহরের ভিতরে চলাচল করার অনুমতি পাবে। তিনি বলেন, এতে আশা করা হচ্ছে শহরে যানজট কমবে।

এ বিষয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, আগামী ১ আগষ্ট থেকে বগুড়া শহরে ২ হাজার লাল ও সবুজ রঙ এর ইজিবাইক দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে চলাচল করবে। এর আগে বগুড়া পৌর কর্তৃপক্ষ ২ হাজার ইজিবাইকের লাইসেন্স দেয়ার ব্যবস্থা নিবেন। লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইজিবাইকগুলোই বৈধভাবে শহরের ভিতরে চলাচল করবে। এরমধ্যে একদিন পর পর পর্যায়ক্রমে এক হাজার লাল ও এক হাজার সবুজ রঙ এর ইজিবাইক চলবে। সেইসাথে ফিডার রোডে সীমিত আকারে চিকন চাকার অটোরিক্সা চলাচলেরও অনুমতি থাকবে। বিষয়টি কার্যকর করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পৌরসভা ও মোটর মালিক-শ্রমিক ও মিডিয়া কর্মিদের নিয়ে সমন্বিত কমিটি একসাথে কাজ করবে। এতে যান নিয়ন্ত্রন করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বগুড়া পৌর মেয়র রেজাউল করিম বাদশা বলেন, যানজট নিরসন কল্পে ২ হাজার ইজিবাইকের লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে। আগামী ১৫ জুলাই থেকে এই লাইসেন্স দেয়ার কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, লাল ও সবুজ রঙ এ বিভক্ত হয়ে শহরে ইজিবাইকগুলো চলবে। পরে আরও ইজিবাইকের লাইসেন্স দেয়া হবে। সেইসাথে জনস্বার্থে পর্যায়ক্রমে শহরের ভিতরে টাউন সার্ভিস মিনিবাস বা হিউম্যান হলার চালু করা হবে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পৌরসভা ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের যৌথ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে বগুড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কবীর আহমেদ মিঠু বলেন, টাউন সার্ভিস চালুর ব্যাপারে তারা সহযোগিতা করবেন। টাউন সার্ভিস হিসাবে হিউম্যান হলার চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে কবে নাগাদ এই সার্ভিস চালু করা হবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

এ দিকে এ ব্যাপারে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) বগুড়ার সভাপতি মাছুদার রহমান হেলাল বলেন, শুধু ২ হাজার ইজিবাইকই নয়, আরও ১০ হাজার চিকন চাকার ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সার লাইসেন্স দিয়ে শহরে চলাচলের অনুমতি দেয়া গেলে সড়কে শৃংখলা ফিরে আসবে। তা না হলে বেকারত্ব বাড়বে।

এ বিষয়ে বগুড়া সদর ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ মো: রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, বগুড়া শহরে যানবাহনের ধারণ ক্ষমতা ২০ হাজার। অথচ সেখানে এর তিনগুণ বেশি যানবাহন চলাচল করে। ফলে যানজট নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আশা করা হচ্ছে, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উল্লেখিত ব্যবস্থা নেয়া হলে যানজট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, সাতমাথাসহ শহরের অভ্যন্তরে শুধু লাইসেন্সপ্রাপ্ত দু’রঙের ইজিবাইকই একদিন পর পর চলবে। তবে চিকন চাকার অটোরিক্সার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে। এই রিক্সাগুলো শহরের ভেতরে ঢুকবে না। চিকন চাকার রিক্সাগুলো ফিডার রোড (বিকল্প) সড়কে চলাচল করবে। তিনি আরও বলেন, চিকন চাকার অটোরিক্সাগুলো যাতে শহরের ভিতরে ঢুকতে না পারে সেজন্য পিটিআই মোড়, খান্দার, রেলওয়ে স্টেশন, জলেশ্বরীতলা কালিবাড়ি, সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ, চেলোপাড়া, জেলখানা মোড় ও বাদুড়তলাসহ মোট ৮টি পয়েন্টে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হবে। তবে আরও বলেন, জিলা স্কুল ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ শহরের ভেতরে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চিকন চাকার রিক্সায় চলাচলে বাধা থাকবে না।

উল্লেখ্য যে, বগুড়া শহরকে রিকশার নগরী বলা হয়ে থাকে। শহরে ৪০ হাজারেরও বেশি রিকশা চলাচল করে। যার মধ্যে ৩৫ হাজারের মতো রিকশা ব্যাটারি চালিত। শুধু রিকশা ও থ্রি হুইলার বা ইজিবাইকই নয়, শহরে চলাচল করে ১৩ হাজারেরও বেশি সিএনজিচালিত অটোরিক্সা। যার বেশিরভাগেরই রেজিস্ট্রেশন নম্বর নাই। এগুলোও অবৈধ। মূলত অবৈধ যানবাহনের চাপেই শহর যানজটের ভারে নুয়ে পড়েছে। যানজটের ঢেউ আছড়ে পড়ছে শহরের লিংক রোডগুলোতে। শহরের সবচেয়ে যানজটপ্রবণ এলাকা হলো সাতমাথা, কবি নজরুল ইসলাম সড়ক, থানা মোড়, চাঁদনী বাজার, ফতেহ আলী বাজার মোড়, চেলোপাড়া মোড়, জলেশ্বরীতলা কালিবাড়ি মোড়, ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড়, এক, দুই ও তিন নম্বর রেল গেইট এলাকা, চকযাদু রোড, স্টেশন রোড, গোহাইল রোড শেরপুর রোড, দত্তবাড়ি, বড়গোলা, টিনপট্টি, মেরিনা রোড এলাকা। এ শহরের সেউজগাড়ী, কামারগাড়ী মোড়, বাদুড়তলা এলাকার লিংক রোড এলাকাতেও যানজট বাড়ছে। সেই সাথে চারমাথা, বনানী ও মাটিডালি মোড় এলাকাতেও যানজটের ঢেউ আছড়ে পড়েছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়