উদ্বোধনের আর মাত্র
০০
দিন
০০
ঘণ্টা
০০
মিনিট
০০
সেকেন্ড

হরিপুরে আশ্রয়ন প্রকল্পের বাড়ি পেল না ভূমিহীন ৩২ পরিবার

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২২, ০৮:২০ রাত
আপডেট: জুন ২২, ২০২২, ০৮:২০ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১ম ধাপে ৪৩৬টি, ২য় ধাপে ৫০০টি ও ৩য় ধাপে ৩৮০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার বাড়ি পেলেও হরিপুর সদর ইউরিয়নের খোলড়া গ্রামের ভূমিহীন ৩২টি পরিবার এবারও তৃতীয় ধাপে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি পেল না। এ নিয়ে ভূমিহীন ৩২টি পরিবারের দেড় শতাধিক মানুষ হতাশায় ভুগছেন।

জানা গেছে, হরিপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরত্বে সরকারি খাশ পুকুর যা বামুনদিঘী নামে পরিচিত যার জমির পরিমাণ ২.৬৩ একর। এখানে ১৯৭৫ সাল থেকে ৪৭ বছর ধরে তারা মাটির দেওয়াল, টিনের ছাপরা বানিয়ে জরাজীর্ণভাবে ছিন্ন কুটিরে মানবেতরভাবে তাদের ছেলে মেয়েদের নিয়ে বসবাস করছে। এর মধ্যে ১৮টি পরিবার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি যাদের বংশানুক্রমে পেশায় বাঁশ মালী, ৭টি পরিবার আদীবাসি এবং ৭টি মুসলিম পরিবারও রয়েছে। কৃষি কাজ বা চাষাবাদের জন্য তাদের নিজস্ব কোন জায়া জমি নেই। দিনমজুর আর শ্রমিকের কাজ করে চলে তাদের পরিবার।

পুকুর পাড়ে বসবাসকারী খতিব (৭০), রাহেলা (৮০), বিভোতি রানী, সরলাদাস (৭০), বুধু হেমরম (৫৫), লক্ষী মারডি (৮০) বলেন, আমরা জেনে আসছি এটি সরকারি খাসপুকুর। এখানে আমরা ৪৭ বছর ধরে বসবাস করে আসছি। আমরা পেশায় বাঁশ মালী। হাট বাজার ও গৃহস্থের বাড়ি থেকে বাঁশ নিয়ে এসে বাড়িতে কৃষি কাজের ব্যবহৃত জিনিসপত্র তৈরি করে বাজারে বিক্রয় করে যে টাকা পাই তা দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করি। বর্তমানে প্লাস্টিকের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে আমাদের পণ্যের কদর কমে গেছে। বাঁশও পাওয়া যায় না, দামও বেশি। এ অবস্থায় পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পরেছে। আমরা সরকারি সুয়োগ সুবিধাও তেমন পাই না। আমাদের খোঁজ খবর কেউ রাখে না। প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি ও জমি পাওয়ার জন্য আমরা ইউএনও’র নিকট গিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা এবারও তৃতীয় ধাপে বাড়ি পেলাম না। এলাকার বিভিন্ন জায়গায় সরকারি খাস জমি ও পুকুর পাড়ে যারা বসবাস করেছিল তারা সকলেই বাড়ি ও জমি পেল কিন্তু আমরা পাবো না কেন?

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকিবুজ্জামান বলেন, পুকুরের মালিকানা নিয়ে আব্দুল হালিম নামে এক ব্যক্তির সাথে সরকারের মামলা চলছে। মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের অপেক্ষা করতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়