উদ্বোধনের আর মাত্র
০০
দিন
০০
ঘণ্টা
০০
মিনিট
০০
সেকেন্ড

বরিশালে  একদশকে হবে ১ হাজার শিল্প

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২২, ১১:৪৬ দুপুর
আপডেট: জুন ২১, ২০২২, ১২:১২ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

বরিশাল: আর মাত্র চারদিন পর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু। ২৫ জুন বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চল প্রবেশ করবে এক নতুন যুগে।

আশা করা হচ্ছে, ৬ দশমিক ১৫০ কিলোমিটার এ সেতুর কল্যাণে অঞ্চলটিতে ঘটবে ব্যাপক শিল্প বিপ্লব। পিছিয়ে পড়া এ জনপদের বাসিন্দাদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটবে দ্রুত।

 

পানি সম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাতের মতে, পদ্মা সেতু অবশ্যই বরিশাল, খুলনা ও নতুন ঘোষণা হতে যাওয় পদ্মা বিভাগের জন্য প্রচুর কাজে আসবে। আর বরিশালে তো সম্ভাবনা রয়েছেই। কারণ, ভোলায় প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে, যা ব্যবহার করে বরিশাল অঞ্চলে শিল্পায়ন করা হলে অতি দ্রুত শিল্প গড়ে উঠবে। এছাড়া, বরিশাল অঞ্চলে বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও দ্রুত শিল্পায়ন হবে।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রচুর সিরামিক্স ইন্ডাস্ট্রি আছে। প্রাকৃতিক গ্যাস পুড়িয়ে যে তাপ হয়; তাতে খুব হাই কোয়ালিটির সিরামিক্স তৈরি করা যায়। লন্ডনের সবচেয়ে দামি দোকানটিতেও বাংলাদেশের কাপ-প্লেট পাওয়া যায়। কারণ, এগুলো খুব উচ্চ কোয়ালিটির।

 

ড. আইনুন নিশাত আরও বলেন, ভোলার সঙ্গে বরিশালের একটা ব্রিজের কাজ শুরু হয়েছে। চাঁদপুরেও ব্রিজের কথাবার্তা চলছে। তবে, ভবিষ্যতে পানির অভাব সমস্যা সৃষ্টি করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ৫০-৬০ বছর পর যশোর থেকে গোপালগঞ্জ- চাঁদপুর হয়ে ফেনী পর্যন্ত একটা লাইন টানা হলে এর দক্ষিণাংশ সমুদ্রের অংশ হয়ে যাবে। কাজেই মিঠা পানির সরবরাহ একটি বড় সমস্যা থেকে যাবে।

 

বরিশালের স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এ অঞ্চলে গার্মেন্টস শিল্পের বিপ্লব ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বেশি। কারণ, বৃহত্তর ঢাকা ও চট্টগ্রামের গার্মেন্টস সেক্টরে এ অঞ্চলের বেশি মানুষ কাজ করে। সে হিসেবে এ অঞ্চলে দক্ষ জনবল রয়েছ। যারা ব্যয় কমিয়ে আনতে নিজ এলাকায় থেকে কাজ করতে আগ্রহী হবেন বেশি। আবার পায়রা ও মোংলা দুটি পোর্টই কাছাকাছি হওয়ায় শিল্প উদ্যোক্তাদেরও আমদানি-রফতানিতে চট্টগ্রামের চেয়ে খরচ কমবে।

 

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাসিন্দা একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা অজয় দাশ গুপ্ত বলেন, বর্তমানে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের তিন-চতুর্থাংশ সম্পন্ন হয় চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার। কিন্তু, রাজধানী ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে মংলা বন্দরের দূরত্ব দাঁড়াবে ১৭০ কিলোমিটার। বিভাগীয় শহর বরিশাল থেকে মংলা বন্দরের দূরত্ব মাত্র ১১৫ কিলোমিটার। পায়রা সমুদ্র বন্দরের দূরত্ব মাত্র ১০০ কিলোমিটার। 

 

অপরদিকে বরিশাল শহর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের সড়ক পথে দূরত্ব এর অন্তত ৩ গুণ। যদি মোংলা ও পায়রা নৌ-বন্দরের সুবিধা বাড়ানো যায়- তাহলে বরিশাল অঞ্চলের শিল্প ও বাণিজ্যের উদ্যোক্তারা আমদানি-রফতানির জন্য এ দুটি বন্দরই ব্যবহার করবেন। তিনগুণ পথ ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বন্দরে যাবেন না। এমনকি ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছেও চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি মোংলা ও পায়রা বন্দর আকর্ষণীয় হবে।

 

তিনি আরও বলেন, শিল্প সংস্থার অনুমান এক দশকে কেবল বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলায় ৫০০ থেকে ১০০০ শিল্প স্থাপিত হবে। যেখানে ১০ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। কেবল মাছের আড়ৎ নয়, এ অঞ্চলের উদ্যোক্তারা আধুনিক মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন করতে পারেন। বড় আকারের লঞ্চ নির্মাণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাহাজ নির্মাণ শিল্প স্থাপনেও বিনিয়োগ হতে পারে সমুদ্র উপকূলে। নারকেল বাগান সৃষ্টি এবং নারকেল তেলসহ অনেক ধরনের শিল্পও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্রে হতে পারে। আমরা শৈশবে শুনেছি, দক্ষিণের সমুদ্রে বরিশাল ক্যাননের ডাকের রূপকথা- যা এখন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা অজয় আরও বলেন, স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে হলে জেগে থেকেই স্বপ্ন দেখতে জানতে হয়। বরিশাল অঞ্চলের রাজনীতিবিদ, প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী এবং অর্থনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রের উদ্যোক্তাদের সামনে এখন এমন অনেক জরুরি করণীয় রয়েছে, যা তাদের ঘুম কেড়ে নিতে পারে।

 

তার মতে, এখন ভাঙা থেকে বরিশাল-পটুয়াখালী-বরগুনা-পিরোজপুর-ভোলা ঝালকাঠির সড়ক দ্রুত চার লেনে পরিণত করতে হবে। রেল নেটওয়ার্কের আওতায় বরিশালকে আনতে হবে। একইসঙ্গে মোংলা ও পায়রা বন্দরের বিদ্যমান সুবিধা বাড়ানো ও সম্প্রসারণ করতে হবে। এছাড়া, ভোলায় মজুদ প্রাকৃতিক গ্যাস বরিশাল বিভাগ ও আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করার জন্য প্রস্তাবিত ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

 

এছাড়া আরও কিছু কর্মসূচির কথা বলেছেন এ বিশিষ্ট কলামিস্ট। তার মধ্যে- পোশাক শিল্প, চামড়া, জাহাজ নির্মাণ, ওষুধসহ বিভিন্ন শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে আঞ্চলিক শিল্পরীতি প্রণয়ন; সমুদ্র ও নদনদীর মাছ, ফল, কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের শিল্প বিশেষ বিবেচনায় রাখা; আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে জোর কদমে এগিয়ে যেতে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে বিশেষ পরিকল্পনা প্রণয়ন; অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার প্রতি মনোযোগী হওয়া; শিল্প স্থাপন, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবার প্রসার, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার পরিবেশ উন্নতকরণ; পর্যটন আকর্ষণীয় করা- ইত্যাদি।

 

এত কিছুর জন্য অপরিহার্য শর্ত, আইন ও শৃঙ্খলা রাখারও কথাও বলেছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক অজয় দাশ গুপ্ত। আইন শৃঙ্খলা ও পরিবেশ ভালো থাকলে মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারবে যতক্ষণ জেগে থাকবে স্বপ্ন পূরণের জন্য নির্বিঘ্নে কাজ করে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়