উদ্বোধনের আর মাত্র
০০
দিন
০০
ঘণ্টা
০০
মিনিট
০০
সেকেন্ড

নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কে আস্থা বাড়ছে মানুষের

বগুড়ায় স্বামীর নির্যাতন ও পরকীয়া নিয়ে গৃহবধূদের অভিযোগের পাহাড়

প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২২, ০৯:০৬ রাত
আপডেট: জুন ২০, ২০২২, ০৯:০৬ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

মাসুদুর রহমান রানা: বগুড়ায় পুলিশের নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কের কার্যক্রমের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ছে। সদর থানাসহ জেলার ১২টি থানাতেই এ ডেস্ক স্থাপন করে শিশু, নারী, প্রতিবন্ধি ও বয়স্কদের আইনী সেবা দেয়া হচ্ছে। প্রতি বছর এ সেবার পরিধি বাড়ছে। এতে হাজার হাজার অসহায় মানুষ উপকৃত হচ্ছে। গত ২ বছর ৪ মাসে ১২ হাজার ৮শ’৫৬ জনকে আইনী সেবা দেয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে এ সব পাওয়া গেছে।

থানার নারী ও শিশু ডেস্কের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, এই ডেস্কে ৮০ শতাংশের বেশি অভিযোগ আসছে পারিবারিক বিষয় নিয়ে। প্রধানত: স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্য, স্ত্রীর প্রতি স্বামীর নির্যাতন,ও যৌতুকের বিষয় নিয়ে অভিযোগ আসছে বেশি। শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং পরকীয়া নিয়েও স্বামীদের বিরুদ্ধে বেশি অভিযোগ করছেন গৃহবধূরা। এসব কারনে সংসারও ভেঙ্গে যাচ্ছে।

বগুড়া সদর থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কের দায়িত্বশীল নারী কর্মকর্তা এস.আই জেবুন নেছা বলেন, সদরেও তার ডেস্কেও পারিবারিক বিষয় নিয়েই বেশি অভিযোগ এসে থাকে। স্থানিয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে এ ধরণের অধিকাংশ অভিযোগ নিস্পত্তি করা হচ্ছে। এতে বহু সংসার ভাঙনের হাত রক্ষা পাচ্ছে। সেইসাথে ইভটিজিং, যৌন হয়রানী, ধর্ষণ ও ধর্ষণের চেষ্টা, শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন, শিশু নির্যাতন ও অপহরণসহ নানান অভিযোগও করছেন ভুক্তভোগীরা। তবে ধর্ষণসহ গুরতর অভিযোগগুলোর বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করে আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্রথম বগুড়া সদর, সোনাতলা ও নন্দীগ্রাম থানায় এ ডেস্ক স্থাপন করা হয়। পরে এর সাফল্য দেখে দেশের প্রতিটি থানায় এ ডেস্ক স্থাপন করে শিশু, নারী, প্রতিবন্ধি ও বয়স্কদের আইনী সেবা দেয়া হচ্ছে। নারী ও শিশুদের কোন অভিযোগ নিয়ে থানায় এলে তাদের হেল্প ডেস্কে পাঠানো হয়। এরপর ডেস্কে নিয়েজিত নারী পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করে থাকেন। যদি নারী অভিযোগকারি ও শিশুর অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেফতার করতে হয় তাহলে এই ডেস্ক থেকে সেই ব্যবস্থা নেয়া হয়।

পুলিশের এক পরিসংখ্যান থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, গত বছর ২০২১ সালে বগুড়া জেলায় ১২টি থানায় নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে ৫ হাজার ৭শ’৪৯ জনকে সেবা দেয়া হয়েছে। চলতি ২০২২ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত সেবা পেয়েছেন আরও ২ হাজার৫শ’ ৯৪ জন। এ ছাড়া এর আগের বছর ২০২০ সালে জেলায় সেবা পেয়েছেন আরও ৪ হাজার ৫শ’ ১৩ জন।

এর মধ্যে শুধু ২০২১ সালেই বগুড়া জেলার ১২ থানায় নারী বিষয়ক অভিযোগ করা হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৬টি, শিশু বিষয়ক অভিযোগ করা হয়েছে ১১৯টি, জিডি ৭০৫টি, এফ আই আর ৪৬৬টি, নারী ও শিশুকে যৌন হয়রানী ২১২টি, যৌতুকের কারনে নির্যাতন ৪৪৬টি, ধর্ষণ ও ধর্ষণের চেষ্টা ১২৬টি, শারিরিক নির্যাতন ৮২৪টি, ২হাজার ৫০৮ টি মানুসিক নির্যাতন, ১ হাজার ১২৮টি পারিবারিক কলহ, ১৭৫টি অপহরণ, ১২ জনকে সেভহোমে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে ১৮৮টি অভিযোগ ও সেবা দেয়া হয়েছে ৩৬৮২টি, পূর্নবাসনকেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়েছে ৯জনকে, উদ্ধারকৃত শিশু অভিভাবকদের জিম্মায় দেয়া হয়েছে ৫০জনকে।

বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, জেলার ১২টি থানায় নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কে শিশু, নারী, প্রতিবন্ধি ও বয়স্কদের আইনী সেবা দেয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার মানুষকে সেবা দেয়া হয়েছে। নারী, বয়স্ক, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের সেবা প্রদানের হেল্প ডেস্কে একজন এসআই, একজন এএসআই ও তিনজন নারী কনস্টেবল দায়িত্বপালন করছেন। শুধু বগুড়ই নয়, বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি থানায় স্থাপন করা হয়েছে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্ক। এই চার শ্রেণির মানুষের সেবা প্রদান করা হচ্ছে। সেবা গ্রহীতারা সেবা পেয়ে খুশি।" ডেস্ক পরিচালনার জন্য একজন সাব-ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে প্রশিক্ষিত নারী পুলিশ সদস্যদের পদায়ন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়