বগুড়ায় ইটভাটা শ্রমিক হত্যার ৮মাস পর রহস্য উদঘাটন করলো ডিবি পুলিশ

প্রকাশিত: জানুয়ারী ০১, ২০২২, ০৯:৪১ রাত
আপডেট: জানুয়ারী ০১, ২০২২, ০৯:৪১ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পড়ে পরে শ্রমিক নিহতের ঘটনার আট মাস পর হত্যা রহস্য উদঘাটন করলো গোয়েন্দা(ডিবি) পুলিশ। গত বছরের ৭ এপ্রিল সকালে আদমদীঘি উপজেলার বড় আখিড়া গ্রামে বগুড়া- নওগাঁ মহাসড়কের ঢাকা রোড বাইপাস মোড়ে আপেলসহ ৪ জনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়৷পরে আদমদিঘী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো: আপেল (৩০) মারা যায়। এ ঘটনায় নিহত আপেলের ভাই সাকিল বাদী হয়ে আদমদিঘী থানায় মামলা দায়ের করা হলে দীর্ঘ তদন্ত শেষে বগুড়া ডিবি পুলিশ গত বৃহস্পতিবার গাজীপুরের কালিয়াকৈর পল্লীবিদ্যুৎ এলাকা থেকে হত্যার সাথে জড়িত ২ আসামিকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতাকৃতরা অজ্ঞানপার্টির সদস্য। এরা হলো, গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আব্দুল মান্নানের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০) ও মীর হোসেনের ছেলে ফিরোজ মিয়া (৩৭)। গ্রেফতারকৃতদের মাঝে জাহাঙ্গীর হোসেন হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। বগুড়া ডিবি কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার আহম্মেদ আলীর ছেলে নিহত আপেল (৩০) টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরের হাটুভাঙ্গা এলাকায় ইট ভাটায় শ্রমিক হিসাবে কাজ করতেন। গত বছরের এপ্রিল মাসের ৬ তারিখ তিনি কর্মস্থল থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দেন। পরদিন ৮ এপ্রিল আদমদীঘি উপজেলার বড় আখিড়া গ্রামে বগুড়া নওগাঁ মহাসড়কের ঢাকা রোড বাইপাস মোড়ে নিহত আপেলসহ ৪ জনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়৷পরে আদমদিঘী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোঃ আপেল (৩০) মারা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শাকিল আহম্মেদ তার ভাই আপেলের মরদেহ দেখতে পান। ওই দিন শাকিল আদমদিঘী থানায় যোগাযোগ করে তার ভাইয়ের পরিচয় শনাক্ত করেন এবং তিনি বাদি হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন আদমদিঘী থানায়।
গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গীর তার স্বীকারোক্তিতে জানান, গত বছরের ৬ এপ্রিল গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দুরা মোড় থেকে তার সহযোগীদের নিয়ে সিমেন্টের ট্রাকে উঠেন। পথিমধ্যে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরের হাটুভাঙ্গা এলাকা থেকে গাড়ির জন্য অপেক্ষামান ভিক্টিম মো: আপেলসহ আরো চারজন প্রতিজনের ২শ’ টাকা করে বগুড়া শহরের চারমাথা পর্যন্ত ভাড়া মিটিয়ে ওই গাড়িতে ওঠে । পথিমধ্যে তারা হোটেলে খাওয়া দাওয়া করে আবার ট্রাকে উঠে। এ সময় জাহাঙ্গীর ২ টি জুসের বোতল নিয়ে তাদের সাথে ট্রাকে উঠে এবং সকলকে কৌশলে চেতনানাশক ঔষধ মেশানো জুস পান করান। জুস পান করার পর সবাই অচেতন হয়ে পরলে আপেল ও অন্যান্য ভিকটিমদের কাছে থাকা মোবাইল ফোনসহ নগদ টাকা ও কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে অভিযুক্ততরা পালিয়ে যায়।
বগুড়া ডিবি পুলিশের ইনচার্জ সাইহান ওলিউল্লাহ জানান, তদন্তে প্রাপ্ত ধৃত আসামী জাহাঙ্গীর আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক অপরাধের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। এছাড়া ওই হত্যাকান্ডের সাথে আরও জড়িত অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যহত আছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়