রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীকে গুলি করে হত্যা

Online Desk Online Desk
প্রকাশিত: ১১:১৫ এএম, ১৭ অক্টোবর ২০২১

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী নেথোয়াই মারমাকে (৫৬) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার রাত ১২টার পর চিৎমরমের আগাপাড়া এলাকায় তাঁকে নিজ বাসায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।


নেথোয়াই মারমা চিৎমরম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছিলেন তিনি।

কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসচাইন চৌধুরী এবং রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর এ হত্যাকাণ্ডের জন্য সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ি করেছেন।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুচাইন চৌধুরী দাবি করছেন, ‘এর আগে চিৎমরমে দুই যুবলীগ নেতাকে হত্যার ঘটনার পর তিনি (নেথোয়াই মারমা) উপজেলা সদরে রেস্টহাউসে বসবাস করতেন। মনোনয়ন জমা দিয়ে গতকাল শনিবার চিৎমরম এলাকায় নেতাকর্মী ও স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু রাত ১২টার পর তাঁর আগাপাড়া এলাকার বাসায় প্রায় ১৪ থেকে ১৫ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী দরজা ভেঙে ঢোকার পর তাঁকে গুলি করে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ড নিঃসন্দেহে সন্তু লারমার জনসংহতি সমিতির কাজ।’

রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর এ হত্যাকাণ্ডের জন্য সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসকে দায়ি করে দাবি করেন, ‘পাহাড়ে নির্বাচন এলেই হত্যাকাণ্ডে মেতে ওঠে এই সন্ত্রাসী সংগঠনটি।’ তিনি আসন্ন ইউপি নির্বাচনে পার্বত্য জেলার সব ইউনিয়নের প্রার্থীদের নিরাপদে ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা জেনেছি আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী নেথোয়াই মারমাকে গুলি করে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। পরে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে পারব।’

এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলার জন্য বরাবরের মতোই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি সাম্প্রতিক সময়ে সব যোগাযোগের বাইরে থাকা সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির দায়িত্বশীল কোনো নেতার সঙ্গে।