করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সাধ্যমতো সহায়তা করবে ভারত

Online Desk Online Desk
প্রকাশিত: ০৭:৫৫ পিএম, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত খুবই কাছাকাছি থেকে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে যাচ্ছে। ভারতে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আমরা এখন বাংলাদেশের জন্য সাধ্যমতো সব কিছুই করবো। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ভারতের পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারে।

শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মির্জাপুর কুমুদিনী কমপ্লেক্সে পরিদর্শন ও ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে নিহত ভারতের সাত সেনা সদস্যের স্মৃতিফলক উন্মোচনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।


হাইকমিশনার বলেন, ভারত করোনা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশগ্রহণমূলক কাজ করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে ভারত বাংলাদেশকে টিকা, অক্সিজেন ও অ্যাম্বুলেন্স সহায়তা দিয়েছে। ভবিষ্যতেও আমরা আমাদের চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্ঞান বিনিময়ে বদ্ধপরিকর।

তিনি আরও বলেন, জাতি ধর্ম নির্বিশেষে কুমুদিনী হাসপাতাল যেভাবে মানসম্পন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছে, আমি তার জন্য এর প্রতিষ্ঠাতা রণদা প্রসাদ সাহার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। কুমুদিনী কমপ্লেক্সে এসে আমি খুবই আনন্দিত।

হাইকমিশনার ও হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব (পাবলিক কূটনৈতিক) দিপ্তী আলংঘাটসহ ছয় সদস্যের একটি দল বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছালে কুমুদিনী নার্সিং স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রীরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।


এ সময় কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা, পরিচালক শম্পা সাহা, পরিচালক মহাবীর পতি, পরিচালক একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রতিভা মুৎসুদ্দি, পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায়, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এম এ হালিম, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (মির্জাপুর সার্কেল) মনসুর মুসা, মির্জাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রিজাউল হক, কুমুদিনী হাসপাতালের এজিএম অনিমেষ ভৌমিক উপস্থিত ছিলেন।

কুমুদিনী লাইব্রেরিতে চা চক্র শেষে হাইকমিশনারকে কুমুদিনী হাসপাতালের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে সেবামূলক কাজকর্ম, বিশ্বযুদ্ধ ও মহান মুক্তিযুদ্ধে কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা রণদা প্রসাদ সাহার অবদানের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। পরে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে নিহত ভারতের সাত সেনা সদস্যকে দাহ করার স্থানে (কুমুদিনী হাসপাতালের প্রধান ফটকের পূর্বপাশে) তাদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিফলক উন্মোচন করেন এবং ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

পরে তিনি কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও ভারতেশ্বরী হোমস পরিদর্শন করেন। দুপুরে ভারতেশ্বরী হোমসে খাবার শেষে তিনটায় আনন্দ নিকেতনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।