বাংলাবান্ধায় উন্মুক্তভাবে পাথর ক্রাসিং জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৯:০১ পিএম, ০৩ মে ২০২১

তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের সড়কের পাশে উন্মুক্তভাবে পাথর ক্রাসিং করা হচ্ছে। এতে মেশিনের ধুলাবালি বাতাসের সংগে ওড়ায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। জানা যায়, বিজিবি ক্যাম্প থেকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের শূন্যরেখা পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে উন্মুক্তভাবে দু’শতাধিক পাথর ক্রাসিং মেশিন বসিয়ে এলসি পাথরের ব্যবসায়ীরা নেটিং, শোর্টিং, লোড-আনলোড’সহ ক্রাসিং করছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের পাথর সাইটের বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় উম্মুক্তভাবে পাথর ক্রাসিং ও লোড-আনলোডের ধুলাবালি আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। পাথর ক্রাসিং মেশিনে ধুলাবালির কারণে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি দিনের বেলায় ধুলাবালিতে ঢাকা পড়ছে। ফলে দেশি-বিদেশি যাত্রীদের চলাচলসহ আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন এ বন্দর দিয়ে গড়ে ২শ’ থেকে আড়াইশ’ যাত্রী পারাপার হয়। কিন্তু জিরোপয়েন্ট থেকে বাংলাবান্ধা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ড পৌঁছতে যাত্রীদের পাথর ক্রাসিং এর ধুলাবালিতে কাপড়-চোপড় নষ্ট হয়। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে এলসি পাথর সরবরাহকারী এজেন্টদের দ্বারা পরিচালিত পাথর ক্রাসিং মেশিনে কয়েক হাজার নারী ও পুরুষ শ্রমিক কোনো রকম স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়াই পাথর ক্রাসিং মেশিন, নেটিং ও ডেম্পিং এর কাজ করছে। এভাবে ক্রাসিং মেশিনে পাথর সাইটে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জিনিসপত্র ছাড়া কাজ করায় শ্রমিকরা ছোট বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এছাড়া অনেকে অ্যাজমা, সিওপিডি, হাঁচি-কাশি ও জ্বরসহ নানারকম ক্রনিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক এবং বাংলাবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান কুদরত-ই-খুদা মিলন বলেন, পাথর ক্রাসিং জোন স্থাপন বা পাথর ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট বাউন্ডারি ওয়াল স্থাপন করা ও           

বিজিবি ক্যাম্প থেকে স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়কে ধুলাবালি প্রতিরোধে পানি সেচ এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু নানা কারণে সেগুলো এখনো বাস্তবায়ন হচ্ছে না। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল কাশেম বলেন, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে উন্মুক্তভাবে পাথর ক্রাসিং করার কারণে সৃষ্ট ধুলাবালি জনসাধারণের স্বাস্থ্যের ক্ষতিকর। এই ধুলাবালির দ্বারা সিলিকোসিস, অ্যাজমা, সিওপিডি, সর্দি-কাশিসহ নানা রকমের রোগে আক্রান্ত হতে পারে। একই সংগে পাথর লোড আনলোড, ডেম্পিং ও নেটিং কাজের জড়িত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করলে ধুলাবালি দ্বারা সৃষ্ট রোগে কম আক্রান্ত হবে।উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু বলেন,  বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দেশের চতুর্দেশীয় বাণিজ্যিক স্থলবন্দর। জনস্বাস্থ্য, পর্যটক ও শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য উপজেলা পরিষদে আলোচনা করেছি। অচিরেই সড়কের দুপাশের রাস্তার জমি থেকে পাথর সরানো হবে। পানি দিয়ে পাথর ক্রাসিং করার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছে। যতদ্রুত সম্ভব স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হবে।